পোস্টগুলি

কবিতা লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

শরতের কবিরা

তবু কেন স্পর্ধিত প্রাণাঙ্কুর আর সব জীবননাম প্রবল প্রাণে জেগে জেগে ওঠে পাতার খেয়াল থেকে ধেয়ান ধেয়ান থেকে কান্নাঘর ... তার দেয়ালে লেখা আছে- মনোনিম -- আদেলিনা দূর কোন গম্ভীর হ্রেষা যেন ডেকে আনে পড়ন্ত বেলা উপমারা ক্ষয়ে গিয়ে রাত নামে ... অন্ধকারে কী দেখ, অন্ধতারা? তুমি তো হারিয়েছ চন্দ্রকাল এ সময় পড়ো মনে ধ্রুববন্ধু পড়শি ছিল যার ত্রিবেণীর স্রোত মালঞ্চে মুদ্রার মায়া কি নূপুর কি বিষাদ হাসি রাত ঝনন ঝনন সে এক অচিন পায়েল সে এক এমন তরল চোখ নীল নিলীন কাচের কফিন থেকে শোচনা ছড়ায়; দেখে, শরতের কবিরা সব ডুবে আছে প্রার্থনায় পুরাতন লেখনীতে, মাধুর্যের মোহে- ঋতবান যারা এঁকে গেছে সূর্য গরিমার চৈত্র হরিণের করোটির ভেতরের নিরীহতা হৃদয় তৃণে তারা আরও লিখে গেছে -- ‘সহসাই ছেড়ে দেবে তারে কেন চায় মানুষ!’

ডাক

মনে কর অংশুময়, সারা রাত্রিপাত তোমাকে অন্ধ করে রেখেছিল ধীর সন্ত যেন, পরিমোক্ষের আশায় এ জীবনের বন-ঝড়, বিটপীর সমস্ত দীর্ঘনিঃশ্বাস তুমি শুষে নিয়েছিলে। মনে কর সোনা ভাই, সেই সব গুপ্ত নাম- প্রসক্তির বেদন-কবিতা শুক্লা যামিনীর ছিন্ন-কাশ আলো সেই মহানীল আকাশের ডাক, আয়... আয়...আয়

জাতক

জীবন, আলো আর ছায়ার মাঝে একটি রেখা তার আর আমার মাঝে শুধু আমি আছি; কেউ আমাকে নিয়ে নাও, শুধু সে রয়ে যাক নয়তো আকশে মেঘের অংশ হয়ে সে আসুক বৃষ্টিপাত হোক, আকাশ আর মাটির যোগাযোগ হোক আমি তো দেখি আঁধারে বৃক্ষদের স্বপ্নকাজ সেখানে তার মত পাখি আড়ালে লুকিয়ে যায় তিমিরধারার মাঝে শিরীষের রাতে ডাক দেয় ঘন-চোখ, মাধবী-মনীষা ডাক দেয় বুনো নদী সাঁতরে যাবো ঐ পার, মনে রেখো ডুবোপাথর মৃত্যুবোধের বুকে ছড়াব ভ্রূণবীজ করপুটে অগ্নি ধরেছি অন্ধ পদাতিক স্টীমারের বিষণ্ন ডাকে কড়িখেলা মনে পড়ে সন্ধ্যার আঁচল কালো কৃষ্ণকথার মন্দিরে হেরে যাওয়া কড়িখেলা- আমার স্নেহের জাতক

শোন মাল্যবান

মন বড় পর্যটন প্রিয় অসম্ভব আদরে ভাঙা রক্তিম বোতাম নিয়ে সে ঘুরে বেড়ায় মানুষ অবধি যদি পায় দেবার মতো তারা, যদি কাউকে বলা যায় কৃষ্ণ গোপনতা, বলে দেয়... . সাথে আরও বলে - কেউ নেই তাই একাকীত্ব নেই প্লাবন যেমন মুড়ে রাখে শোকে অথচ কন্ঠে তার শস্যের ডাক, ভোরের দ্যুতি আর সন্ধ্যা তেমন সন্তরণময় . আর তোমার তো মাল্যবান মনের মহল কাজলে তন্ময় গায়ে হলুদের উজ্জ্বল মেয়েরা চলে গেছে বলে, বন্ধ হয়েছে বলে সমস্ত কলরোল তুমি স্তব্ধ হয়ে আছো . জেনো প্রীতিও কিন্তু মূক তবু পুষ্প, ঝরাপুষ্পরই পুনরুক্তি

আমি আর সেই বৃক্ষ

এসো আজ আনন্দবাড়ি রঙচোর অনঙ্গ পাখি নশ্বর দৃষ্টির কাছে আঁকা থাক চিত্রল ঋতু, অলক্তরেখা-- বুকের কিনারে থাক রূপান্ধ গীতাঞ্জলি স্বপ্নপ্রসূ এক ফিরতি নদীকে বলি- সব ব্যাকুলতা ফিরিয়ে আনো মাঙ্গলিক চিহ্ন রাখো, স্পর্শমণি রাখো তৃষ্ণার তীরে হৃদয়ে হৈমন্তী কার নিদাঘের শেষে শব্দের নীড়ে কার সানন্দ গান স্পর্শাতীত মুখে আহা নির্বাণ প্রেম মুক্তিস্নানে তার কাছে নম্র নিবেদন,- বলতো- ছায়া কীরকম? ধ্রুবতা? সুন্দরা, এ পৃথিবীতে কাকে বলা যায়- একা থাকা ভালো? কাউকে তো পেতে হবে যাকে বলা যায়- আমি এক নক্ষত্রসুর পড়ে আছি তুমি কণ্ঠে তুলে অমরতা পাও কাকে দেখানো যায়- সেই বৃক্ষের সমস্ত পাতার রং... অন্তিম আলোর মাঝে যে ছিল একাকী আমি আর সেই বৃক্ষ পাশাপাশি থাকি

তার কথা

মেঘ করে আসে বাজে যত নীরব ঝুমুর  সে তো তখনো বলে নাচ  মুদ্রাহীন এই পৃথিবীরে বলে  এই নাও- একটি শ্বেত ময়ূর  কৃষ্ণচূড়ার পথে নেচে এসো- যাও ছেড়ে গেছে সব সে  না হারিয়ে মাতাল করেছে চিরকাল প্লাবনের রাত্রিতে ডুবে গেলে হলুদ শস্য সকল  গায়েন মাচায় বাঁধে দয়ালের সুর  সে তো তখনো বলে খেলা আর খেলা সে তো এখনও আছে প্রাচীন পাথর অমরতা নিয়ে আছে ভ্রমণ-বিমুখ  হরিণের চরে ঘুরি ক্লান্ত নিষাদ  নিশীথদর্শী চিরকাল  নেপথ্যে নূপুরের মন কী যে করে  মায়া কাটে ঘুণপোকা হরিণের চরে   সে তো এখনো বোনে কতিপয় ঘুঙ্গুট কথন  যেন বা কথা বলে দাগ কাটা সৈকতে  ফিরে যাওয়া জলের গহনে  মুছে যাওয়া কথাদের সাথে সে তো এখনও বলে- দেখো ভালো হবে

আড়ি পাতো মেঘ, শোনো

মধু কুমকুমে আলো রয়ে গেছে রয়ে গেছে তার রোদের কারুকাজ নাকি বনিতার প্রাণ যেন কমলার মদ বিহ্বল হিরণ্য আঁধার একটা বিষাদময় রাত থেকে গান এলো তোমার জন্য এ আমার রক্তাঞ্জলি সযত্ন স্বেচ্ছাদহন তোমার চোখের আনন্দ দিয়েছিলে রূপের হীরামন একটি বাঁশি তোমার বুকে লীন একটি স্বপ্নের মূর্ছনায় জড়িয়ে আছি অন্যকিছু নয় স্বপ্নের কোনো শেষ নেই তাই হাতে হাত রেখে ছাদের কিনারা থেকে দেখ সব মনের অনুগত হারানো বছর জীবনঘটিত সব নীরব আদর আমি তো এখনও দেখি পূর্বকাল আড়াল যদিওবা রোশনি বিপুল আমিও একাশ্রিত ফুটিয়েছি ভুল অবেলায় ঝরে গেছে তার মত চৈত্রীর রাত সীমাহীন মায়া নয় একটু পক্ষপাত চেয়েছি কেবল...

দিয়ালা

মায়াডোরে হেসে ওঠে চিহ্নের টান আসিনি এখনো আমি পথ অফুরান আর কোন দেখা নেই ফেরা নেই তার ভুলে থাকা ভালো সেই কথা নাফেরার দুইটি শ্মশান চোখ ধারা তার সুর কাজলের রাত্রিতে দূর আনে দূর তৃষ্ণার মত কিছু গোপন আড়াল আঁধার মেলেছে এক মায়া ভরা জাল খোঁজ চলে নিদ্রার, হৃদয়পুরের মুখচাওয়া মৌনতা অন্তপুরের দেখেছি শুনেছি যত মিনতির ছাই শেষের মুক্তি আছে নিঃশেষে নাই কোথায় রাখব তারে কবিতায় নয় ছোট হবে ঘর তার খুব ভয় হয় এই যে অশরীরী তবু তার মুখ একটু শান্তি আনে একটু অসুখ অন্য দোলের দিন ঝিনুকের দুল নাচের মতন পাতা চাহনির ভুল তারপরও উদাসীন শব্দের কাছে শিশুর মতন কিছু চাওয়া পড়ে আছে

তারা ফিরেও না যায়

তারা জানে মায়াবিদ্যা বন্ধুতার সজলশরম হাসিঅশ্রুজল তারা আসে নদী নির্জন বেয়ে বৃন্দার মার্মেইড এইখানে   চুম্বন করেছি হিমি রাত্রির চোখ আদি মহান্ত যেন জপেছি সোহম সোহম পুষেছি ছায়াপাখি-- এই নৈশ নৈশলোক সিদ্ধার্থ স্নান শেষে জীবন করেছি মিত্রাক্ষর বুকে ধরেছি বজ্রনাদ                   স্মৃতিকাল এই আশ্রম বেলির ছায়া অন্ধকারের শীত... কারা তবে শস্যের সুগন্ধ নিয়ে আসে বাজায় সূর্যকন্যার রক্তিম রক্তিম চুড়ি   গায় তন্মনা সাহানা সুর আগরের বন ধরে ধরে আসে এই বিরলতা অমিয় চোখের আশ্রমিকা, তারা ছড়াকেটে ছড়াকেটে                  স্বপ্নরত ঘুম                        আজীবন

পারাপার

মন কিছু জানে, তারার লাস্যে লীন রাত্রির কথা চোখের তুবড়ি থেকে রঙমশাল এখনও পুষ্পবিরাগী কেউ ভুলে আছে নৃত্যবিহার ডমরুর ধুন কার নিজের ছিল দূরান্ত বাগান শিকারের ট্রেঞ্চ গদ্যের এপিঠ-ওপিঠ রাইফেল           এস্রাজ আরও কিছু খানিক অনুনয় এই তো আর ক’দিন পর শরৎ খিলখিল তাম্রাভ পৃথিবীর পারে ঢুলুঢুলু নদী কান্তপ্রহর কেউ ভোলাবে না

নাগরিকা

কত জলে জ্বলে ওঠে পুষ্পিতা বন, নাগরিকা তুমি জান নাই দেখ এই ম্লান মৌসুম চলে যায়... উড়ে আসে প্রীতির পায়রা গ্রীবার চলনে তার সন্ধ্যা মুখর। এই নীলনির্জনে শূন্যতা শরীরে মাখো এই বর্ষার জলময় ধীর সময়, এই থিতোনো সন্ধ্যার মত আলোয় আমাদের ছলোছলো যুগলবন্দীতে কোন বৃষ্টিবন রেশমরঙিন... আজ হাসির শিমুল দিয়ে রক্ত মুছে ফেলি নির্লিপ্ত হেঁটে যাই আষাঢ় ক্যারাভান কত জলে হেসে ওঠে পুষ্পিতা বন, নাগরিকা তুমি বোঝ নাই,- আমি এক বিমর্ষ মন্ত্রের মত তোমার শ্রবণে ঢুকে পড়েছি তুমি কাঁদছ...

ভোর চিঠি

আকাশ জ্বললে আমি দ্রুত ছাদ থেকে নেমে পড়ি, চাঁদকণা উড়ে আসে বাতাসে। জানালার ফ্রস্টেড গ্লাসে শিউলির গালছাপে হাত বুলিয়ে দেই। সুন্দর নিষ্ফলা বড়; রাত্রি জাগিয়ে চলে- গাছ নদী শিউলির তাথৈ বেদনা। নৈঃশব্দ্যের কোলাহলে সজাগ ঘুমের প্রেরণা জেগে থাকে- জেগে থাকে আদিম আগুন, জেগে থাকে ঐ দূর থেকে ভেসে আসা রাতের ট্রেনের হুইস্যাল। ভাঙ্গাচোরা শুরু করে ছায়ার নেশার অভিশাপ। অনভিজ্ঞ হাত নাহয় পাতাই স্পর্শ করেছিলো বেখেয়ালে। তাতেই ঘুমিয়ে গেছে হরিৎ প্রহর - লজ্জাবতীর মুখ! জীবনের মৃত্যু হয় না তো, হারিয়ে যায় শুধু। মুখর নির্জনতায় অন্ধকার রেখে যায় দূরতার হাহাকার। তার দেশে উড়ে চলে ঘূর্ণি মেঘের তুরপুন... গভীর - গভীরতর রাত প্রলয় ঝুমুর। ভোরের আলোয় ধীর লয়ে খুলে যায় বীজকোষ, কোমল পাতার মুখে আদি সবুজের ছাপ...আমি চিৎকার করে উঠি, শোন! গত রাতের অন্ধকার, এই শমী সবুজের আলো দেখে যাও, দেখ শিশু সূর্য গড়িয়ে পড়ে ফুলঝুরি হয়ে; কে এসেছে দেখে যাও চোখের আলো- অতীত হেসেছে দেখে যাও।

তান

একটা সময় দিক না ধরা একলা বৃষ্টি দেবদারু বন কাজল ছোঁয়া দুফোঁটা জল মেদুর চোখের বন্ধুর মন একটা সন্ধ্যা নিঃস্বতা হোক মধূৎসবের যবনিকায় গোপনচারীর বুকে থাকুক ছায়ার মায়া, একটু সহায় সহায় নিয়েই বেঁচে থাকুক অভিমানের স্বপ্ন, রাখাল তোমার মাঠে যাক উড়ে যাক আগুন ঝাঁপা পাখির উড়াল না হয় কিছু মেঘরোদ্দুর অদূর আদর যায় হারিয়ে নামডাকা স্বর ডাকবে কোন তোমার বুকেই, তোমায় নিয়ে তোমার যত খেলা ছিল ঘোর লাগা পথ গীতির কথা এসব নিয়েই যাপন এবার এসব নিয়েই মুখরতা একটা ব্যথা স্থিরঅনুভব পূর্বরাগে অপরূপা একটা জীবন তার কাছে থাক এলোমেলো, এমনই তা

দ্বীপান্তরে

মৌটুসির ঠোঁট থেকে প্রার্থনা করে এনে দিয়েছি পদ্যহরফ। হে আইসিস, এসো, অলৌকিক পলির বুকে উৎসারিত হোক শত অংকুর। আমি কারো বুকের কাছে গান, অনুতাপের হিম। মৃত্যুনীল আকাশের দুই বাহু ছাড়িয়ে আমি এসে গেছি দেবদারু বন, ধ্রুপদী মুদ্রার পথ। এখন যত শব্দ সব পাখি, আর বৃক্ষ কবিতা শরীর। ক্যারিবিয়ান সমুদ্রের ছড়িয়ে দেয়া দীর্ঘশ্বাসের মত ঢেউ আর রক্তক্রন্দন কাটিয়ে এসে রোচনার সিঁথি থেকে ছিটকে উঠেছে দিন। এখন চাই দ্বীপান্তর। নিঃসঙ্গ দু’জনার- একান্ত। আমরা জেনে নেই এই ক্ষণে ধূপরহস্য, চিনে নেই আরশিনগর। আমরা দেখে নেই মেঘ-তারা তারা-মেঘ রাত হেমন্ত অথবা বৃষ্টিচুর ভোরঅন্ধকার। আমরা বৃক্ষবাসী পাখি। আর কেউ নেই এই চরাচর। হরিতকি শিখরের কাঁচা সবুজ আমাদের শরীর। এখন তারায় তারায় জেগে আছে কবিতার অনুভব। কানে বাজে মৌহারী বাঁশী। আমরা এই বনগহনে সবকথা বলে দিয়ে-- গান।

দেখা

ঘুম পাড়ানোর কোলে স্মৃতিগ্রাস। কাতরকন্ঠ- ভেসে যাই, ভেসে যাই। চুপিসাড়ে বিদ্ধ কোরে পৃথিবীর সমস্ত সকাল-সন্ধ্যাকাল, তুমি এসো প্রতিক্ষীত, বাজাও মায়া সাইরেন। আমি আকাশে আকাশে দেখতে চাই মুখরিতা তারা। জানি আঁধারেই আছে স্বপ্নের ঝিমিকি। আমি জানি সমস্ত নীরবতা নিয়ে রাত্রিই মহান। দেখা মানে- অরণ্যে অচেনা ফুল। ঐখানে ফুটে থাকে প্রেমের গোপন প্রণালী, রঙিন কুয়াশার মিথ। অশরীরীর ছায়াবাজি, মায়ার পিছের পুষ্পমুখ তন্দ্রার মত নেমে আসে। জলপাই বনে নেমে আসে নিঃসঙ্গ ক্রন্দন- মদের চেয়ে তীব্র। আমি চিনি ঐ আঙ্গিনার মধুর ঘ্রাণ, পল্লবীর নীরব নাচ,  ঝুলন রঙিন আঁখিপাতা। এই রাত- সে আয়নার মত আমার।

চিঠি

রূপকিশোরীর চোখে বেজে ওঠে রোদের সানাই সুরের দোলে দুলে ওঠে একবন কাশফুল, মুক্তোর আলো, তুমি এসো তোমার বরষায় ভিজে যাওয়া আনন্দের আমাকে শিখিয়ে দাও ধুপছায়া অংকন, নিশুতির নীল এই অজ্ঞাতবাস – অচেতনা, কন্ঠলীন স্বপ্নপ্রতিজ্ঞা-- মরমিয়া অজস্রধারায় স্নাত কর এই জ্যোৎস্নাকাতরতা রংধনুর চূড়ায় বসে থাকে প্রাণখোলা ঝাউবনে চুপ হারিয়ে যায় বেভুল গয়াল দূর বাজনার বোল থেকে ধীর নেমে আসে রাগ বাহার মর্মরে লিখে রাখে লিপিকর - দীয়ার অক্ষর জানি ছল তার হরিণের স্থির চক্ষু রূপ ভ্রু ভঙ্গি রেণুর প্রহার, জানি চোখ তার রোদের সানাই মন, মন্দিরা রাত বরষার হেসে উঠ এই মোহনায় ছায়াচ্ছন্ন এই প্রান্তরে ভেসে এসো মৌন মরাল মুক্তোর আলো, তুমি এসো

স্নেহা

এক দ্যুতিনীল সন্ধ্যা নদীর পারে আমি মাঝখানে ঢেউয়ের মাদল ঐ পারে বাগানকুঠি মুগ্ধতা তোমার নদীটির নাম দিও 'স্নেহা' নীল অন্ধকারে তারার হাসির মাঝে বেঁকে যাওয়া নদী, এই চোখ থেকে নদী... এখন সন্ধ্যা ছায়ার কানাকানি এখন হোমের আগুন, পুষ্পগোপন খুশি ফসলের এইক্ষণে আমি নাই, অনন্ত সন্ধ্যা আছে ভোরমহিমার কাছে আঁকা ছিল ঘনরাত, বৃষ্টির ঝিরি চৌপহর ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হয়েছি আমি যাদুময় তুমিইতো দেখালে আদরনমিত চোখ-- জমা হোক, তার কাছে এরকম সন্ধ্যারা জমা হোক উপমারা উড়ে যাক তোমার পলকে আহা আনন্দা, আমার চির অচিন সুরধারা দূরে থেকো ভালো রেখো ... ওগো নিদ্রা আমার হুহু অভিমান ওগো ফল্গুধারা, আয়নার ছল অনেক দেখেছি দিল্লাগি এইবার ছায়ালোক আমার হোক স্নানার্থী আমি ওগো মন নীল নদের নাও, আমায় শূন্যে নিয়ে যাও নদীটির নাম দিও 'স্নেহা' নীল অন্ধকারে তারার হাসির মাঝে বেঁকে যাওয়া নদী, এই চোখ থেকে নদী...

রাতকলম

গোধূলির সারগাম নূপুরের, তারপর শঙ্খরাত- তোমার। এখন সব রাত জেগে থাকি, অথচ রাত মানে এক ঝাঁক পাখির ঘুম! একটি পুষ্পহীন বেলী গাছ অপেক্ষার মত লাগেনি তোমার...

সুর

তুমি আজকে বল কেন হৃদয়ের কেউ ছিল চন্দ্র মুখে গেল জোছনা বিহার আমি তার কথা কই সে পাতালের ঢেউ ভুল ভাবনার পথ সে নিয়েছে এবার আমি হরিণ সাগর দ্বীপে ছুট্টে বেড়াই যদি নিদ্রাবরণ মেঘ যায় ধরা যায় পরে কাঁটার মুকুট আমি পরাগ ওড়াই কার কনক প্রভায় কে সূর্য ভাসায় তুমি সন্ধানে তার ছিলে চন্দ্রাহত তুমি কবিতার হাত তাই করেছ মশাল ওই জোনাকির রাত ছিলে প্রতারিত হংসবাসর তুমি করেছ মাতাল তুমি আজকে বল সুর একটিই সুর সব সুর যেখানে মেলে নিদ্রাসম ঐ পালকের শ্রী পাখি ভাসানমেদুর তারাপথের পথিক তুমি রাত্রিতম

এসো

সে প্রাণ দখিনে দূর দূর অচিনে এক রাখি রেখে যায়, ডাক পাখি রেখে যায় দূর মেনেছে তাকে চক্ষু তারা মন বিজনে যাকে কাছে রাখা যায় সুর মেনেছে তাকে সব কথারা আলোর নাচন যার ঘুঙুর খেলায় এই আজ চমকে সেই নাম তোমাকে শুধু রাখা হয়ে যায়, পিছু ডাকার বেলায় চুপ রেখেছে তাকে সন্ধ্যাপ্রতিম বনস্পতির রেখা আমার অচিন মন জানা হও চুপ শঙ্খধ্বনি আমি পার হতে অতলে ডুবতে জানি দ্রোণ তীর যেখানে নাচ বৃষ্টিধারা এসো সেই মহলে দেই ফুল পাহারা এসো শ্যামল পাখায় এসো রুদ্র পাখি দেখি বন্ধু কেমন তুমি বন্ধু নাকি ....................................................... জানুয়ারী ১৮, ২০১৩