পোস্টগুলি

চিঠি

রূপকিশোরীর চোখে বেজে ওঠে রোদের সানাই সুরের দোলে দুলে ওঠে একবন কাশফুল, মুক্তোর আলো, তুমি এসো তোমার বরষায় ভিজে যাওয়া আনন্দের আমাকে শিখিয়ে দাও ধুপছায়া অংকন, নিশুতির নীল এই অজ্ঞাতবাস – অচেতনা, কন্ঠলীন স্বপ্নপ্রতিজ্ঞা-- মরমিয়া অজস্রধারায় স্নাত কর এই জ্যোৎস্নাকাতরতা রংধনুর চূড়ায় বসে থাকে প্রাণখোলা ঝাউবনে চুপ হারিয়ে যায় বেভুল গয়াল দূর বাজনার বোল থেকে ধীর নেমে আসে রাগ বাহার মর্মরে লিখে রাখে লিপিকর - দীয়ার অক্ষর জানি ছল তার হরিণের স্থির চক্ষু রূপ ভ্রু ভঙ্গি রেণুর প্রহার, জানি চোখ তার রোদের সানাই মন, মন্দিরা রাত বরষার হেসে উঠ এই মোহনায় ছায়াচ্ছন্ন এই প্রান্তরে ভেসে এসো মৌন মরাল মুক্তোর আলো, তুমি এসো

স্নেহা

এক দ্যুতিনীল সন্ধ্যা নদীর পারে আমি মাঝখানে ঢেউয়ের মাদল ঐ পারে বাগানকুঠি মুগ্ধতা তোমার নদীটির নাম দিও 'স্নেহা' নীল অন্ধকারে তারার হাসির মাঝে বেঁকে যাওয়া নদী, এই চোখ থেকে নদী... এখন সন্ধ্যা ছায়ার কানাকানি এখন হোমের আগুন, পুষ্পগোপন খুশি ফসলের এইক্ষণে আমি নাই, অনন্ত সন্ধ্যা আছে ভোরমহিমার কাছে আঁকা ছিল ঘনরাত, বৃষ্টির ঝিরি চৌপহর ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হয়েছি আমি যাদুময় তুমিইতো দেখালে আদরনমিত চোখ-- জমা হোক, তার কাছে এরকম সন্ধ্যারা জমা হোক উপমারা উড়ে যাক তোমার পলকে আহা আনন্দা, আমার চির অচিন সুরধারা দূরে থেকো ভালো রেখো ... ওগো নিদ্রা আমার হুহু অভিমান ওগো ফল্গুধারা, আয়নার ছল অনেক দেখেছি দিল্লাগি এইবার ছায়ালোক আমার হোক স্নানার্থী আমি ওগো মন নীল নদের নাও, আমায় শূন্যে নিয়ে যাও নদীটির নাম দিও 'স্নেহা' নীল অন্ধকারে তারার হাসির মাঝে বেঁকে যাওয়া নদী, এই চোখ থেকে নদী...

রাতকলম

গোধূলির সারগাম নূপুরের, তারপর শঙ্খরাত- তোমার। এখন সব রাত জেগে থাকি, অথচ রাত মানে এক ঝাঁক পাখির ঘুম! একটি পুষ্পহীন বেলী গাছ অপেক্ষার মত লাগেনি তোমার...

সুর

তুমি আজকে বল কেন হৃদয়ের কেউ ছিল চন্দ্র মুখে গেল জোছনা বিহার আমি তার কথা কই সে পাতালের ঢেউ ভুল ভাবনার পথ সে নিয়েছে এবার আমি হরিণ সাগর দ্বীপে ছুট্টে বেড়াই যদি নিদ্রাবরণ মেঘ যায় ধরা যায় পরে কাঁটার মুকুট আমি পরাগ ওড়াই কার কনক প্রভায় কে সূর্য ভাসায় তুমি সন্ধানে তার ছিলে চন্দ্রাহত তুমি কবিতার হাত তাই করেছ মশাল ওই জোনাকির রাত ছিলে প্রতারিত হংসবাসর তুমি করেছ মাতাল তুমি আজকে বল সুর একটিই সুর সব সুর যেখানে মেলে নিদ্রাসম ঐ পালকের শ্রী পাখি ভাসানমেদুর তারাপথের পথিক তুমি রাত্রিতম

কিছু আজকের আর বিগত শীতের কথা

১। আজ ফুলের ক্ষণিক জীবন দেখ, দেখ ফুল রঙ! পৃথিবীর সমস্ত ফুলেরা রূপকথারদিনে ভালবেসেছিল, হোলি খেলেছিল ২। কৃষ্ণপক্ষ জুড়ে তাই দূর দেখা আমাদের, দৃষ্টির রশ্মি ধারায় লক্ষদুয়ারী আলোঘর তারা আর তারা ছুঁয়ে জোছনার প্রচ্ছদ- অনন্ত অনন্ত রাত। ৩। ভুলেছে যত ঋতু আর পার্বন ভুলে ভরা রাতি স্মৃতিচুর পাখি ৪। ফিরে আসছে আমার নিভৃত থেকে অন্তরঙ্গতা ভুলে বহিরঙ্গে আসছে বর্ষা আসছে ৫। প্রার্থিত স্নান থেকে উঠে এসে মেলে ধর গোপন আয়না দেখ চোখপাতারা সব উড়ে উড়ে যাচ্ছে নীল ফড়িং তোমার নগ্ন দু'চোখে আর ঘুম নেই কোনো ৬। বৃষ্টিভেজা কার্নিশ থেকে জল পড়ছে টিপ টিপ টিপ টিপ এস এম এস-এর অনুঅক্ষর... ৭। ঝুমকোর দোল বলে দেয় অস্থিরমতী তুমি ৮। এখন ঘাস জড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়েছি আমি, বিতারিত নিদ্রাহীন রাখাল। কারো তনু বৃষ্টির মত যেন আধো স্বপ্নে দেখা... ৯। দেখ তোমার দিকেই ছড়িয়ে পড়ছে শব্দ রাশি রাশি। শোন, পাথর থেকে উৎসারিত হয় ঝর্ণার গান। ১০। অশ্রু লেখা আছে রাত্রি নদীর কাছে ১১। ঢেউ নিরবধি, তোর নাম জানি নাই রূপ চিনি নাই ১২। হাওয়া চলে হাওয়া চলে তার সাথে চলে চলে মুছে যায় মৌঘ্রাণ একটি নিভৃত ফুল ছেয়ে থাক তুমি তবু হাওয়ার বিপরীত ১৩। শব্দরা বিবাগী যেখানে দূর ...

এসো

সে প্রাণ দখিনে দূর দূর অচিনে এক রাখি রেখে যায়, ডাক পাখি রেখে যায় দূর মেনেছে তাকে চক্ষু তারা মন বিজনে যাকে কাছে রাখা যায় সুর মেনেছে তাকে সব কথারা আলোর নাচন যার ঘুঙুর খেলায় এই আজ চমকে সেই নাম তোমাকে শুধু রাখা হয়ে যায়, পিছু ডাকার বেলায় চুপ রেখেছে তাকে সন্ধ্যাপ্রতিম বনস্পতির রেখা আমার অচিন মন জানা হও চুপ শঙ্খধ্বনি আমি পার হতে অতলে ডুবতে জানি দ্রোণ তীর যেখানে নাচ বৃষ্টিধারা এসো সেই মহলে দেই ফুল পাহারা এসো শ্যামল পাখায় এসো রুদ্র পাখি দেখি বন্ধু কেমন তুমি বন্ধু নাকি ....................................................... জানুয়ারী ১৮, ২০১৩

তৃণা

মাথুর কাহিনী বড় গীতিময়; একটা নিঃসঙ্গ   শহর   সবথেকে বেশি সাংগীতিক , মেঘমল্লারে   আমাকে সঙ্গে নিয়ে সে   তার নদীতে মুহ্যমান। অন্ধের যদি নদী না থাকে আর তার ঘুর ঘুর পথ , তার তবু ধারা   আছে সুজনতারার দিকে নীল নেভানো নেভানো। অগ্নিহোত্রীরও শীতের মানে জানা আছে, শীত তার বশ। এবং এইসব যত পরিচয় , শেষ পাখিটি ঘুমানো অব্দি এতসব বিনিময়   মানুষের প্রত্যন্তে চলে যায়, তারপর সে ঘুমিয়ে পড়ে।   আমি তাই জলোপাসনা করি, যাই পূর্ণা নদীর নৌউৎসব- অফুরান , ডাহুক ডাহুক । দেখি নিজের আলোতে একটি শিশিরমুখ - তৃণা এক জলসবুজ তৃণা।

মৃত্যুর মত মায়া

সুরার পাত্রের বুদবুদ থেকে খুশি গিলে ফেলি হায় চক্ষু মণির মত বুদবুদ... আর কাঁদি আর কাঁদি চন্দন গন্ধ থেকে জন্ম নিয়েছিল অন্ধত্ব আর আগুনের পাখি, চিতা নীড় থেকে উড়ে উড়ে হারিয়ে গেল। রেখে গেল,- মনুষ্যহীন দাহভূমি এই সন্ধ্যা এই শোক এই শীত শিশুমুখ হে, জ্যোৎস্না রাতে মুগ্ধ নয়ন জ্বালালো কত মুগ্ধ নয়ন তুমি জানো নাই...... নিরলে পেলো না যে তোমাকে তাহার মতন তার চোখে শ্যাম আঁকা জল তোমার নয়নজাল মুক্তাভোরের দিকে টানে দেখ ভোরহারা আমি, শিউলিঢালা পথ জানি নাই হায় মায়া-ঈশ্বর, তুমি প্রাণময়- ছায়ানটের বোল সুরমদে টলোমল আমি অকূলের পথে টানো... যদি পারো গান ভোল চোখ বুজে আসে পাখি- কখন যে উড়ে যাও তুমি! .......... Dhaka Jan 4, 2013

হুইসপারস...

১ = হে প্রিয়তম ছায়া এই পত্রমেদুরতায়, শাখার আঁচলে ঢাকো তুমি প্লাবন ফেরত পাখি ২ = রেণু ওড়ার দিন আসছে, ফুল ৩ = মূর্ত হও আতপস্নানে অশ্রুরাগ রঙধনু শূন্যতার অহংকার বড়- শোন জলজ বাতাস, আজ আকাশ আঁক ৪ = তারানীল খুশির মিছিল চলে ভোর; তোমাদের শুভনাম জানতাম জুড়ে রবে প্রস্থান পথে। ৫ = বন্ধুরাত কৃষ্ণপক্ষ জুড়ে বেড়িয়ে গেল আমার ঘর আমি তার মুখ দেখেছি সুদর্শন কৃষ্ণনীল কাজল ভরা চোখ নিয়ে এই খাঁ খাঁ আঙ্গিনায় জ্বেলে গেছে সে সকরুণ অন্ধ গোলাপ ৬ = উড়ছে অশনি চোখের পলক থেকে শায়কের ফুল আঘাতের কাছাকাছি আমি ৭ = পিছু ফিরে দেখ রাস্তা ঘুমিয়ে গেছে জানি, কোনদিন কারো তুমি ঘুম ভাঙ্গনি ৮ = আর দেখ মেঘচেতনা থেকে উন্মোচিত হল অশ্রু ও আঁচল প্রিয় সন্ধান ৯ = বান বিমুখ নদী বিয়োগের নাম ১০ = ফুলদানী .......... এসো, ধারণ করি। যদিও ভঙ্গুর তবু কেউ আমাকে ছোঁবে না সুন্দর ভয়ে। তবে নিষ্পাপ শিশু হলে ভিন্নকথা তার নাম দিয়ে দেব অভিমান। ১১ = সন্ধ্যানদীর পার, তুমি জান নাই কত দীর্ঘ সে বসে থাকা- একটি প্লাবন তৃষ্ণা তোমার ভাঙ্গন ১২ = সিঁদুর রেখার পথ ধরে, জ্যোৎস্না জড়িয়ে ধরি তোরে ১৩ = মন যাপন হোল না, হায় এইদিকে সখীর হৃদয় কুসুম কোমল ১৪ = অলিন্দ থেকে বে...

কাব্যরাগ-অশ্রুরাগ

তীব্র দংশনে বারেবার মরে যেতে এসো হে মধুসুন্দরসঞ্চয়, ক্লিওপেট্রা! এ আমার রক্তময় উৎসর্গ, এ আমাদের সিদ্ধপিঠ; বালুচরি ঝিলমিলে মুক্তামহলে যাও আগরের বন ধরে ধরে । এই দেখ মায়ান ক্যালেন্ডার নিয়ে কত শোরগোল, মামুলি উছিলাতেই শ্মশানবৈরাগ্য পেয়ে বসে, হায় হৃদয়বৃত্তি আমার! আজন্ম অনুবিদ্ধ হয়ে আছে হীরে আর বিষ, চোখে ও মগজে। চক্ষুতে চিরনীহার, কর্ণে মোৎজার্ট- আরও আরও দীর্ঘ সন্নিধির হাহাকার... সমগ্র অয়নমণ্ডল ঘুরে ঘুরে মরে যেতে এসো এইখানে তুমি সন্দীপক- একটুকু রাত্রিপ্রভা। শব্দবোধিবৃক্ষের ছায়া কখনও আপন নয়। না-বলা কথারা সুবর্ণ ক্রন্দন- জল এক নৈঃশব্দ্যের ভাষা। তবু এইসব কুহুকথা সেই এক অরূপ সন্তুরবাদিনীর আঙ্গুলপরাগে ঝরে পড়ে, সেই এক চিত-চোর বিঁধিয়ে দেয় খামাজের খঞ্জর, নেশার ইয়ার দেয় চন্দ্রকোহল। আর বিজলি খেলে দপ করে নিভে যায় আমাদের চেনা পথ, বাজলাগা গাছ দেখি বকুলের। দীর্ঘ ধীর কান্নার আওয়াজে বোঝা যায় এসে গেছে কবিতার বাড়ি। মরণ অবধি কাঁদে কবিতার মেয়ে