পোস্টগুলি

কিছু আজকের আর বিগত শীতের কথা

১। আজ ফুলের ক্ষণিক জীবন দেখ, দেখ ফুল রঙ! পৃথিবীর সমস্ত ফুলেরা রূপকথারদিনে ভালবেসেছিল, হোলি খেলেছিল ২। কৃষ্ণপক্ষ জুড়ে তাই দূর দেখা আমাদের, দৃষ্টির রশ্মি ধারায় লক্ষদুয়ারী আলোঘর তারা আর তারা ছুঁয়ে জোছনার প্রচ্ছদ- অনন্ত অনন্ত রাত। ৩। ভুলেছে যত ঋতু আর পার্বন ভুলে ভরা রাতি স্মৃতিচুর পাখি ৪। ফিরে আসছে আমার নিভৃত থেকে অন্তরঙ্গতা ভুলে বহিরঙ্গে আসছে বর্ষা আসছে ৫। প্রার্থিত স্নান থেকে উঠে এসে মেলে ধর গোপন আয়না দেখ চোখপাতারা সব উড়ে উড়ে যাচ্ছে নীল ফড়িং তোমার নগ্ন দু'চোখে আর ঘুম নেই কোনো ৬। বৃষ্টিভেজা কার্নিশ থেকে জল পড়ছে টিপ টিপ টিপ টিপ এস এম এস-এর অনুঅক্ষর... ৭। ঝুমকোর দোল বলে দেয় অস্থিরমতী তুমি ৮। এখন ঘাস জড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়েছি আমি, বিতারিত নিদ্রাহীন রাখাল। কারো তনু বৃষ্টির মত যেন আধো স্বপ্নে দেখা... ৯। দেখ তোমার দিকেই ছড়িয়ে পড়ছে শব্দ রাশি রাশি। শোন, পাথর থেকে উৎসারিত হয় ঝর্ণার গান। ১০। অশ্রু লেখা আছে রাত্রি নদীর কাছে ১১। ঢেউ নিরবধি, তোর নাম জানি নাই রূপ চিনি নাই ১২। হাওয়া চলে হাওয়া চলে তার সাথে চলে চলে মুছে যায় মৌঘ্রাণ একটি নিভৃত ফুল ছেয়ে থাক তুমি তবু হাওয়ার বিপরীত ১৩। শব্দরা বিবাগী যেখানে দূর ...

এসো

সে প্রাণ দখিনে দূর দূর অচিনে এক রাখি রেখে যায়, ডাক পাখি রেখে যায় দূর মেনেছে তাকে চক্ষু তারা মন বিজনে যাকে কাছে রাখা যায় সুর মেনেছে তাকে সব কথারা আলোর নাচন যার ঘুঙুর খেলায় এই আজ চমকে সেই নাম তোমাকে শুধু রাখা হয়ে যায়, পিছু ডাকার বেলায় চুপ রেখেছে তাকে সন্ধ্যাপ্রতিম বনস্পতির রেখা আমার অচিন মন জানা হও চুপ শঙ্খধ্বনি আমি পার হতে অতলে ডুবতে জানি দ্রোণ তীর যেখানে নাচ বৃষ্টিধারা এসো সেই মহলে দেই ফুল পাহারা এসো শ্যামল পাখায় এসো রুদ্র পাখি দেখি বন্ধু কেমন তুমি বন্ধু নাকি ....................................................... জানুয়ারী ১৮, ২০১৩

তৃণা

মাথুর কাহিনী বড় গীতিময়; একটা নিঃসঙ্গ   শহর   সবথেকে বেশি সাংগীতিক , মেঘমল্লারে   আমাকে সঙ্গে নিয়ে সে   তার নদীতে মুহ্যমান। অন্ধের যদি নদী না থাকে আর তার ঘুর ঘুর পথ , তার তবু ধারা   আছে সুজনতারার দিকে নীল নেভানো নেভানো। অগ্নিহোত্রীরও শীতের মানে জানা আছে, শীত তার বশ। এবং এইসব যত পরিচয় , শেষ পাখিটি ঘুমানো অব্দি এতসব বিনিময়   মানুষের প্রত্যন্তে চলে যায়, তারপর সে ঘুমিয়ে পড়ে।   আমি তাই জলোপাসনা করি, যাই পূর্ণা নদীর নৌউৎসব- অফুরান , ডাহুক ডাহুক । দেখি নিজের আলোতে একটি শিশিরমুখ - তৃণা এক জলসবুজ তৃণা।

মৃত্যুর মত মায়া

সুরার পাত্রের বুদবুদ থেকে খুশি গিলে ফেলি হায় চক্ষু মণির মত বুদবুদ... আর কাঁদি আর কাঁদি চন্দন গন্ধ থেকে জন্ম নিয়েছিল অন্ধত্ব আর আগুনের পাখি, চিতা নীড় থেকে উড়ে উড়ে হারিয়ে গেল। রেখে গেল,- মনুষ্যহীন দাহভূমি এই সন্ধ্যা এই শোক এই শীত শিশুমুখ হে, জ্যোৎস্না রাতে মুগ্ধ নয়ন জ্বালালো কত মুগ্ধ নয়ন তুমি জানো নাই...... নিরলে পেলো না যে তোমাকে তাহার মতন তার চোখে শ্যাম আঁকা জল তোমার নয়নজাল মুক্তাভোরের দিকে টানে দেখ ভোরহারা আমি, শিউলিঢালা পথ জানি নাই হায় মায়া-ঈশ্বর, তুমি প্রাণময়- ছায়ানটের বোল সুরমদে টলোমল আমি অকূলের পথে টানো... যদি পারো গান ভোল চোখ বুজে আসে পাখি- কখন যে উড়ে যাও তুমি! .......... Dhaka Jan 4, 2013

হুইসপারস...

১ = হে প্রিয়তম ছায়া এই পত্রমেদুরতায়, শাখার আঁচলে ঢাকো তুমি প্লাবন ফেরত পাখি ২ = রেণু ওড়ার দিন আসছে, ফুল ৩ = মূর্ত হও আতপস্নানে অশ্রুরাগ রঙধনু শূন্যতার অহংকার বড়- শোন জলজ বাতাস, আজ আকাশ আঁক ৪ = তারানীল খুশির মিছিল চলে ভোর; তোমাদের শুভনাম জানতাম জুড়ে রবে প্রস্থান পথে। ৫ = বন্ধুরাত কৃষ্ণপক্ষ জুড়ে বেড়িয়ে গেল আমার ঘর আমি তার মুখ দেখেছি সুদর্শন কৃষ্ণনীল কাজল ভরা চোখ নিয়ে এই খাঁ খাঁ আঙ্গিনায় জ্বেলে গেছে সে সকরুণ অন্ধ গোলাপ ৬ = উড়ছে অশনি চোখের পলক থেকে শায়কের ফুল আঘাতের কাছাকাছি আমি ৭ = পিছু ফিরে দেখ রাস্তা ঘুমিয়ে গেছে জানি, কোনদিন কারো তুমি ঘুম ভাঙ্গনি ৮ = আর দেখ মেঘচেতনা থেকে উন্মোচিত হল অশ্রু ও আঁচল প্রিয় সন্ধান ৯ = বান বিমুখ নদী বিয়োগের নাম ১০ = ফুলদানী .......... এসো, ধারণ করি। যদিও ভঙ্গুর তবু কেউ আমাকে ছোঁবে না সুন্দর ভয়ে। তবে নিষ্পাপ শিশু হলে ভিন্নকথা তার নাম দিয়ে দেব অভিমান। ১১ = সন্ধ্যানদীর পার, তুমি জান নাই কত দীর্ঘ সে বসে থাকা- একটি প্লাবন তৃষ্ণা তোমার ভাঙ্গন ১২ = সিঁদুর রেখার পথ ধরে, জ্যোৎস্না জড়িয়ে ধরি তোরে ১৩ = মন যাপন হোল না, হায় এইদিকে সখীর হৃদয় কুসুম কোমল ১৪ = অলিন্দ থেকে বে...

কাব্যরাগ-অশ্রুরাগ

তীব্র দংশনে বারেবার মরে যেতে এসো হে মধুসুন্দরসঞ্চয়, ক্লিওপেট্রা! এ আমার রক্তময় উৎসর্গ, এ আমাদের সিদ্ধপিঠ; বালুচরি ঝিলমিলে মুক্তামহলে যাও আগরের বন ধরে ধরে । এই দেখ মায়ান ক্যালেন্ডার নিয়ে কত শোরগোল, মামুলি উছিলাতেই শ্মশানবৈরাগ্য পেয়ে বসে, হায় হৃদয়বৃত্তি আমার! আজন্ম অনুবিদ্ধ হয়ে আছে হীরে আর বিষ, চোখে ও মগজে। চক্ষুতে চিরনীহার, কর্ণে মোৎজার্ট- আরও আরও দীর্ঘ সন্নিধির হাহাকার... সমগ্র অয়নমণ্ডল ঘুরে ঘুরে মরে যেতে এসো এইখানে তুমি সন্দীপক- একটুকু রাত্রিপ্রভা। শব্দবোধিবৃক্ষের ছায়া কখনও আপন নয়। না-বলা কথারা সুবর্ণ ক্রন্দন- জল এক নৈঃশব্দ্যের ভাষা। তবু এইসব কুহুকথা সেই এক অরূপ সন্তুরবাদিনীর আঙ্গুলপরাগে ঝরে পড়ে, সেই এক চিত-চোর বিঁধিয়ে দেয় খামাজের খঞ্জর, নেশার ইয়ার দেয় চন্দ্রকোহল। আর বিজলি খেলে দপ করে নিভে যায় আমাদের চেনা পথ, বাজলাগা গাছ দেখি বকুলের। দীর্ঘ ধীর কান্নার আওয়াজে বোঝা যায় এসে গেছে কবিতার বাড়ি। মরণ অবধি কাঁদে কবিতার মেয়ে

আদিপাঠ

চিতার নখরে শাবক ছোঁয়ার ক্রন্দন বিঁধিয়ে দিয়েছ- 'সুন্দর' মোহঅন্ধকার, এক রূপডালির মোহর, ঝুমুরের দলে চলে গেছে। প্রতিবার হারানো বাড়ির মোড়- মোহের দু'চোখ মণিময় একটি পুষ্পবাণ মূর্ছার নীল নীল কোল একটি নীলকমল জড়োয়ার কুমকুম দিন, আয়না খচিত মুখে অনন্ত দর্শন জানি। এ আকাশ ভেসে গেছে সিঁদুর সিঁদুর তোমার বিভূতি তুমি, আর কেউ নয় পদ্মরাগ কিছু মেঘবর্ণা জল হে নীলাঞ্জন  তবু রূপ লাগি, চোখে নিও ছায়া হয়ো- সুন্দর তুমি সবথেকে পুরাতন রাজমণিকার, কাল কাল প্রতিজ্ঞ তুমি- এখনও তো দাও নাই দাও নাই কিছু !

সায়ংকৃত্য

হারানো নগরীর ছবি দেখে হেসে ওঠো বৃদ্ধ মৎস শিকারী। ভুলে যাও পাতা ফাঁদ, আততায়ীর হেঁচকা টান। এবং শেষপর্যন্ত নিজেকে। জানি তোমারও চোখ ভিজে ওঠে পুরনো ফিলিপস রেডিও, যেইখানে শোনা যেত সাইক্লোন সংকেত, অনুরোধের আসর। হারানো বাসস্থান দূর বড়দূর-- আর তো তোমার কাছে নেই। হতে পারে পেট্রা অথবা পানাম নগর। ভরদুপুরে ঘর অন্ধকার করে শুয়ে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছ অজ্ঞেয় সন্ধানী; দিকভ্রান্তপ্রহর- ত্রসরেণু ত্রসরেণু... এত নীল নীলকণ্ঠ, এত এত বিষ! তবু জীবন জেগে থাকে স্পর্ধার জীবন, লুপ্ত মনার্কির সুবর্ণ প্রবেশদ্বারে গোধূলি আলোর মত জীবন। জেনো, মৎস শিকারী অথবা সুলতান, বৃদ্ধদের কোন শ্রেণীবিভাগ নেই। জীবন জুড়ে বেড়ে উঠেছ তুমি। হেসে দাও। কারণ চিন্তা আর যাপনের অকারণ ফূর্তি বিহীন দিগন্তখোলা ভাবনার এই সায়াহ্ন ধীর, বৃদ্ধ সেতারবাদকের সুরের মত টানটান।

প্রত্নজ্ঞান

ধারাময়ী, বর্ষার অবয়ব মানায় তোমাকে, মহাকাল তা জানে। সেই থেকে যে অরণ্য আর তার ক্যানপির মায়াবিথার, তার প্রতীতি দিয়ে যাও। আমাদের মার্গ অভিন্ন, আর তা চলে গেছে ভুয়ো সব যাজ্ঞিকের স্পর্শ ছাড়াই জলঝুমুরের চার্বাক পথে। শিশির ভুল করেছিল পুষ্পলজ্জা এনে। হ্যাঁ, শিশির এক অনুষঙ্গ- লীনতা, রাত্রির ওডিকোলন। হাসির শিমুল দিয়ে রক্ত মুছে ফেলা যায় অথবা ঠিক এরকম জেনে জেনে নেয়া যায় যে, সমস্ত শিশুডাক এবং চোখ হারানো কোকিলদের সহ আমাদের সমস্ত কথা মিলে যে ঘুমপিয়ানোর রাতিগান, মূলত তা-ই আমাদের আরাধনা শেখায়।

দূরলেখা

নয়না আমি কি একটা সাঁওতালী চোখের লাল গোধূলি পেরিয়ে যাচ্ছি?  আজ রাতে ঘুমবো না। ঘুমাবে না পাহাড়িবিনোদ। এই দেখ্, যত শহুরে হুইস্কির ফায ঝেড়ে ফেলছি। আয় রাত্রি দীঘল ছায়া, আয় মহুয়া-- মহুয়া। চোখ রেখে এসেছি নয়নার কাছে, রেখে এসেছি ঝর্নার দিন। একবার তাকে এক কীর্তনীয়ার কথা বলেছিলাম। বলেছিলাম, যে পথে ভাসান, সেই নদীপথ নিয়ে গান আছে, আছে ধূমল স্বরলিপি। চক্ষুর কাছে আছে রাত্রি পুরাণ, নিদ্রাঘোর লাগে যেন কীর্তনীয়া- গাও...। চেতনা থেকে উড়ে গেছে রোদের বাবুই। এখন হিম কুঠুরিতে কিছু গুটিসুটি রাত। আমি রেশম রাতের কাছে মুখ লুকিয়েছি। রেখায় রেখায় মোমের চিবুক তার। তাকে বলি, মিনতীর মত বাজো কালো রাত্রিবাতাস। সবাই ঘুমিয়ে গেছে নয়না, আর আমি একটা পড়ে থাকা বাঁশিতে ফুঁ দিয়ে দেখলাম মেঘ, ময়ূর, শাদাগাভী, সুচিত্রা আকাশ-পাতাল। তবু কেউ জাগেনি এখনও। পুরনো খাতা খুলে দেখেছি শেষ পার, পুরনো খাতা খুলে দেখেছি নয়না, শব্দরা নিদ্রাকর। ধূসরআঁক প্রান্তরেখা থেকে সরিয়ে এনেছি চোখ। নিজেকে দেখেছি আমি রাত্রিমুখী, প্রতিফলিত। আমি তোকে বলেছিলাম, আবার যদি দেখা হয়... ধূপ জড়ানো থাক,  সন্ধ্যা গন্ধ থাক, কিছু তো থাক চিনে নেওয়ার ঘ্রাণ। একদিন ...