পোস্টগুলি

বেতফল

কবিতা মানেই সেতু। চিত্র নীরব, কবিতা তার বলা কবিতা মানে বনিতার চোখের জল জলছবির সারল্য বেতফল বলেছিল জীবনানন্দ যেখানে শব্দের প্রয়োগ অর্থপূর্ণ যেখানে প্রান্তরের পার থেকে হাওয়া আসে আঁধার আলোর মত হয় এই আরাধনাশীল জীবন থেকে চোখ পাতি চিত্রাহরিণে কারু খচিত আকাশে দেখি গার্গীর শাড়ি পরশুরামের নেয়া ক্ষত্রিয় রক্ত আর তাঁর আবির্ভাবের কথা মনে করে আস্তিন গুটিয়ে চলি কার্ট্রিজে ভরে নেই বুলেট তবু এই রাত্তিরে ভাবি ছায়া তার অস্তিত্বের জন্য আলোর কাছে ঋণী কর্ম ছুটিতে যায় গান ভেসে আসে কবিতা নলবনে হাওয়ায় ভেসে আসে

বৃষ্টি ও পাপ

দেখ স্বর্গ এ দুনিয়ায়  ছুটে শুধু আসতে চায়  বলে স্থান দিওগো আমায়   মুক্তাকে বের করে আনো  অদ্ভুতকে প্রকাশ্যে জানো  সব যেন অর্থ  খুঁজে পায়  ক্ষমা যে তোমার হাতে  এই ঐশী ক্ষমার রাতে  লাবণ্যরেখা ঘেরো মন  দেখো মানুষ জ্যান্ত পোড়ে  এই পৃথিবীর চক্করে  দয়াবারি ইচ্ছে এখন  তুমি নত হও, শোনো   জলধারা নতমুখী মানো  পড় মাহমুদ দারবিশ  ফুল কাঁটার ওপরই হাসে  জল পিপাসাকে ভালোবাসে  এই স্নেহে কবিতা লিখিস   দেখ একটি নিভৃত পিন অহং সে প্রতিদিন  রক্ত ঝরে রক্ত ঝরে পরে  আমি চাই বৃষ্টি ও পাপ  একসাথে থাকুক আলাপ  একসাথে যেন বাস করে        

মিউজিক

গালিব বলে, ফুলেরা কানে শিশিরের তুলো গুঁজে রেখেছে তাই সে বুলবুলের গান শোনে না, অ্যাবস্ট্রাক্ট মোটিফ প্রিন্টের মত   গান আসলে নীরবতা থেকে বের হয়ে আসা শব্দ  শব্দরা  থেমে যায় যেখানে, সুর সেখানে কথা বলে  এই সময়ে, এই প্রায়ান্ধ দিনে  দক্ষিণেশ্বর পেড়িয়ে এই বেলুর মঠের নির্জনতায় মনে হয়  তোমাকে আমি গানের কাছে রেখেছি  জাদুর অন্যরূপে তুলেছি তোমাকে  বিরানতা ঘিরে ধরেছে   ঘূর্ণিস্রোতে মেতে উঠেছে ফুটে ওঠার ডাক, বলছে  -  সুরের সাথে থাকো

কারিগর

জানালার ছায়া শোনে রাংতার কথা  অনস্তিত্বে যে শান্তি আছে তা এই শরীরে কোথায়, তবে এ শরীরে কবিতা আছে। গানের হনন কথার  প্রয়োজন নেই কারণ সংসারীরা  আর গান শোনে না। আমি দু-জগত হত  আমার দোহার তোলে-  এই করিমের মরণ বাকি হইলো না অধর ধরা এভাবেই সব ধানের দোলের গান  শোনো ছায়াকর,  তোমার শরীর ঘেঁষে  যে  উপপথ চলে গেছে ঝুলনযাত্রায়-   যে কোঠাবাড়ির তুরানি মেয়েরা নেচেছিল,  ঝড়জলে নেমেছিল আয়নার কারিগর তাকে বলি, যাত্রা শেষ, এবার দেখাও  জ্যোতিঃপথ, পরিক্রমণ করি তোমাকে 

কবিতা

কবিতার নীল শামিয়ানা দিয়ে ঢেকে দেয়া যায়  গ্রীবার কালো দাগ কবিতা খোঁজে তার দিল হকদার  এইযে দিন চলে গেলো  তুমি রাত্রি দিও, কোনও কালো রেখোনা আড়াল  অন্ধকার-গান তুমি শোনো ...  ফ্যালকন উড়ে যায় সমুদ্র আকাশ  তারা বলে,  পৃথিবীতে অচেনা সৈকত বলে কিছু নেই  ব্রতচারী কবি লেখে আদিম মানবহীন নগরীর কথা  তার কালি আর দূর্বার রঙ এক  সাজবদল হলেও সে রঙ গভীর  যৌনতা  অথবা তার চেয়ে বাসি ইচ্ছারা  কবিতার মতো রেখা দেখে হেসে উঠে বলে,- মূর্ত 

বৃক্ষ হও ভাষাহীন কথা বল রাত্রির মতো

ট্রেনের হুইস্যালে দুনিয়ার ছন্দ শোনা যায়  মার্মা হাওরে ঘোরে বাতাসের শিস একটানা  এই স্লেট-অন্ধকার ছড়িয়েছে নিরকার দূর  মানুষ মুহূর্তে সুন্দর হতে পারে রাত্রি পারে কি  রেইনবো লরেকিটের মতো ডাকে অন্ধকার  দেখা কর, একটি দেখায় রাত্রি পর্দা খুলে ফেল  দেখাও স্পর্ধার ক্ষতমুখ, যে এখনো দাঁড়িয়ে  এ অহং থেকে মুক্তি দাও ব্যথা দাও ছন্দ দাও   যেদিকে দৃষ্টি দাও আমিই অতীত, পৃষ্ঠা খোলো  এ জীবনের পাঁচ লাইন লিম্যারেক শেষে  পড়ে দেখো আড়ালে লুকোবে স্নেহ, দেখবে না তাকে  যদিও জাগ্রতের ব্যথা বেশি তবু এই দিনরাত  জেগে দেখি তৃতীয় সংসার এক বলে ওঠে  বলে, বৃক্ষ হও ভাষাহীন কথা বল রাত্রির মতো 

যে ডোবে সে-ই হয় পার

অহং ছেড়েছি শোনো বেকারার কবিতার কথা সুখী এক ঢেউ দাও এ দীর্ঘ নদীপথ যাত্রায় হালকা নীলাভ রঙ তাকে আকাশী ডাকে আকাশ  ঋভু তুমি  জানো এ রঙের আদিঅন্ত জানো ব্যথা জানো  স্বর্ণ-খনির ঘা আর তা থেকে মানুষের ভ্রুনঘাতী ইতিহাস,  এ মনুষ্য জীবন কদাকার আমরা সবাই জালজীবী জাল থেকেই আহার এ ছায়াপথ মৃত্যু তাড়িত তার বাঁক খুব দ্রুত  আমাদের বিসর্পিত প্রেম এই পথে থেমে যায় এই পশমিনা জীবন-চাদর এই তীব্র শীত ঘড়ির দোলনকাল মনে রেখে রেখে চলা তবু মারুতির প্রিয় বন আর নদীর সাঁতার, যে ডোবে সে-ই হয় পার আর আমি চোখের পাতায় ঢাকি এ প্রাণন, কেননা চোখের ট্র্যাজিক ভাষা অপাঠ্য

শঙ্খ

এই পলাশের লাল জেনো বসন্ত পার্বণী এই হলুদাভ দিন জ্বলজ্বলে দুপুরের রোদ  গুজিয়া হাতে বাসন্তী মেয়েদের ফেরা  ক্লোন করা মুখ ক্ষীণ কটি নির্জনে আসে  পপলিনে মিহি হাওয়া তার সাথে নির্জনা সে  আকাশপ্রদীপ জ্বলে উপশম আছে কিনা বলো  চরণচিহ্ন সমস্ত গিয়েছে দূর উত্তর এই জ্বলজ্বলে রোদে ফিরে এসো  শীতনিদ্রা কিছু ভালো নয় মনের বাহক  ধুলো হই তৃণ হয়ে জন্মাবো বলে অথবা  হাওয়া হই নিঃশ্বাসে। তুমি কষ্ট তুলো না  শুধু নারী হও, আরতির লয়ে নাচুক আদর  যতদিন যায় এ নেশা দিক পাল্টায় তবু  লক্ষ্যে সে স্থির, আরতি বেলায়  তোমার  সুচারু স্তনজোড়া কাঁপতে থাকে  আমি ভাবি, কখন? আবার কখন পাবো  সময়ের দেখা, দুটি আইভরি বলে ঠোঁটে ইচ্ছেমত কামড়ে খাওয়া বাডস অফ হার ব্রেস্ট        

চিহ্ন

মানুষ মানুষকে টানে এ টানই তো শেষ কথা রোগ পোষে মন, মন চাওয়া শেষঘুম ছাড়া ফ্রেশ স্পাইশড পমফ্রেট আর সিন্যামেন, ব্যান্সন থেকে টান আসে শেষ শ্বাষহারা আজ রাত তড়িতের অরূপ রূপের ওংকার নাচে কথক সংগম- সে বর্ষার নদী বুকভরা বনে বনে ঘুরে জেনেছি, আসলে সে ভিন রঙ চেনা সারগামে বনের ঝিরির সে ধারা সে বনে রাত্রি, বাইশ ফ্যান্টাসি অফুরান এই ভূমিরূপে আমিতো দেখেছি স্নেহবন আর কিছু নয় দেখি নেশা আর তুমি ভুল সিন্যামেন মদে মেশে কুয়াশায় তার মন হাত ছুঁলো না যে ঐ আঁচলের রূপকথা পলকে হারাবো মানুষী যখন মন দেবে সাথে কেউ নেই আর তো একটি নীল তারা মানুষ যেখানে গাড়বে চিহ্ন- ছাপ রবে।

লিসবন

যুদ্ধতাবুর পাশে, আসে এমনি একেকটি কথা  যে আগুনে ইস্পাত যেই তাপে সৃজনের ব্যথা    বনে পেগান মেলায় যাই কূট বিরোধ থামাই   এক বিন্দু মদিরার চোখ দেখে বলি ব্যথা নাই  ব্যথা নাই মনে যেন লিসবন উপাসনাগার  সে শহরে  গলফগ্রীন সে হরিত লেগেছে আমার  কে তোমায় ভিন নামে চেনে, দিতে চায় দেনা  একাকী যেমন ভ্রূণশিশু যার মা'র মন চেনা  গীতিকবিতার গান যেই আসে মায়ের গলায়  কে আবার তার মাঝে  জ্যোৎস্নার কান্না মেশায়  পুরোনোতে মাতি আমি  দর্দকে চাই এক নজর শাশ্বত কুমারীর  কবিতার নিবিড় ছন্দ এ  শহর  ভ্রমর আক্রান্ত কথা পথের পাশের বিজ্ঞাপন  লেখা আছে পৃথিবীর পুরোনো শহর লিসবন