পোস্টগুলি

সিনফোনিয়া

একটা যাত্রা ছিলো দুইদিন দুইরাত মনোহর কয়েকশ মাইল, ট্রেন নয় পায়রাপালকি যেন, যার বেহারার দল টেনেছিল চাঁদের চরস। অবকাশ দীর্ঘ যদি হত ওরকম, পাম এভেনিউ ধরে ধরে চলে যেতাম আবারও নলিনীহাওড় ......... আহা কাঠগুদাম, রাতের স্টেশন- তুমি কতদিন কতরাত আগে দিয়েছিলে দৃষ্টি আর শ্রবণ সন্ধান- এক রাত বৃষ্টির একুস্টিকস তো অন্য রাত মুনলিট ভেলি’র ঢালে সিনথিয়া’র মুখ! এই যে আমার ঘুঙুরস্পন্দ চোখ, সেইখানে লেগে আছে এখনও সেদিনের অরণ্য বিথার। এই যে আমার দোরঙা চব্বিশ প্রহর তবু সেই গুনগুন মুকুলকথন, মোহ টান- বিজন পাহাড় অবকাশ দীর্ঘ যদি হত, প্রেয় অন্ধকার আর পথরহস্যে ভ্রমণকাল দীর্ঘ করে নিতাম। অনন্ত শূন্যসোপান বেয়ে বেয়ে, কালরক্ষীর চোখ ফাঁকি দিয়ে তুলে নিতাম স্ফটিক দোয়েল ... ... অবকাশ দীর্ঘ এত হত তারপর নৈঃশব্দ্য বাজিয়ে যেত মন সিম্ফোনিস্ট!

খেয়ালী লেখা (৭০টি)

{১} রাত্রি তার নিয়ম মাফিক দিনে গিয়ে পড়ল। সন্ন্যাসী আবার ব্যবসায় নেমে পড়ল। {২} অবাধ্য নিজের ধোঁয়ায় পালিয়ে এলি মৌয়াল {৩} বৃষ্টি বুঝিনি, সে সবার ঘুমে ঝরে গেছে তার প্রতি মায়ায় আজ সকালে সব মুখ সুন্দর... {৪} নক্ষত্রে নক্ষত্র জেগে রয় রাত্রি গভীর আর আমরা ভাবি সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে... {৫} এখন প্রান্ত বদল হোল শুধু খেলা বাকী খেলা বড় নির্মম শোনালে, ছবি? বিরতীর পর শেষ দৃশ্য রয়ে গেছে অথবা নির্মম শেষ বাঁশি {৬} রাত্রি কালোর প্রান্তরে অনন্ত তার রূপ ধরে বিজন বেলা এক হয়ে সমগ্রতার মুখ ছুঁয়ে আলোকপাতে চোখ ভরে রাত্রি কালোর প্রান্তরে {৭} আমার হোক অধীর চোখ ঝাউ পাতাদের বর্ষালোক {৮} দূরে পাখির ঝর্না না তার প্রিয় ওড়না? {৯} বর্ণপরাগে শব্দফুল বৃথা কবিতা বলেছি তারে, শব্দে লিখি নি যারে {১০} আমাদের মত লুট করেনি কেউ নদী ভোর বৃক্ষ পাখি নিখুঁত এ স্বরচিত জেল জীবন {১১} সবার বুকেই আছে এক কথা বলা পাখি পৃথিবীর ঠোকর থেকে বেঁচে যেতে আমরা যে বর্ম আঁটি তার নাম পৌরুষ উদ্ধত যাপন তবু সবার বুকেই থাকে সুনীল সে পাখি আমরা সবাই শুধু বুকে চেপে রাখি... {১২} তোমার চোখ থেকে ভোর ঝরে পড়লেই ...

শুভ দিন

ঝাউপাতা ঝিরিটির মুখ দেখ এইটুকু মনে কর তুমিও পেয়েছো কোনো পৌরাণিক দান, সূর্যলোক থেকে একটি তড়িৎ জ্বলা চোখ স্থির হয়ে আছে দেখ তোমার রোদরেখা চিবুকে, ভোরবালা আজ শুভ নতুন দিন ভোর থেকে রাত আজ মনিহারি প্রহর প্রহর চিত্রার মধুবনী শাড়িটির কাজ থেকে আজকে আমার শ্রুতলিখা একটি তিশাবাজ প্রমোদ আকাশে ওড়ে দেখ তার ডানার হাওয়ার গন্ধে লবঙ্গফুল তার ডানার শব্দে মন্ত্রের মত গান তার পিঠে উড়ে চলেছে তোমাকে বলার মত কথা্ পুষ্পপুরীর দেশ সেইখানে সংক্রান্তি উৎসব শেষে সবাই সন্ধ্যামণির মত ফুটে আছে মূর্ছনার কাছে, নির্ঝরের কাছে কথার অক্ষর মিলে জলে জলে তথাগত মুখের ছায়া শুভদায়ি স্রোতে তার হৈম ফসল কাল রাতে তারামণিকার আকাশ থেকে আলো ধার নিয়েছি উজালা তারও আগে সন্ধ্যার কণ্ঠ থেকে চেয়ে নিয়েছি ধুপছায়া রঙ ছবি এঁকে দেব এই বেলা ভোরবালা।

কেন... ?

আজীবন আপন থাকার স্বপ্ন দেখিয়ে গেছে কবিতার দূর্বাগাছির করতল, স্ফূরণের রঙ্গন- এই বিভোর চলাচলে শ্রান্তি নেই ধুলোর টাইপরাইটার কবির ম্যাজিকবক্স পিয়ানোর মত তাই বেজে ওঠে তোমাদের রৌদ্র বাতাস। আপন হাওয়ায় তার বুকের উইন্ডমিল, হৃদয় নাচ পাখি তার অক্ষর স্লিপিং পিল অথবা জাগ্রতের শাণিত চোখ হতে পারে, তাকে পথ দেখিয়ে গেছে ছায়াপাখি ওহ অসহ ব্লিজার্ড... আজীবন কান্না করার ইচ্ছে জাগিয়ে গেছো নাছোড় ছায়াপাখি! কবিরা তাই মেঘপ্রেমিকের দল, স্বপ্নখচিত হিয়েরোগ্লিফ ছড়িয়ে দিয়েছে যারা স্মৃত কোনো মহৎ ভুলের দিকে; ফুটিয়েছে অক্ষরের দ্রোহ আর নাচ... আর ঘুম কবির মৌনমন্দিরে তার চির উন্মুক্ত নৈঃশব্দ্যের কাছে কবিতা কালো হীরের ভ্রমর, জীবন অথবা মরনের প্রসন্ন গ্রহণ কবিতা নীলচে গীটার অন্ধ তানে যার ভেসে যায় অন্তর-মহাল রবিনসনের দ্বীপ.....................

ড্রাংক

একটা সময় হবো নীল চক্রবাক সময়ে সময় মিলে রঙের ক্রোটন; আঙ্গুল যখন ছোঁবে মেরুন স্প্যানিশ ঘোর যাত্রা হবে ঝিম প্রপেলার সুদূর রুপোর দেশ ঝড় জলপথ ডুবুরীর হার্পুনে বিষ মেশাবো। একটা উড়ান হবে পতঙ্গ দহন ছিন্নভিন্ন করে যত হানিট্র্যাপ মোক্ষ মধুর জানে নিশানার তির একটু বেপথু হয়ে সামলে নেবো।।

দোল জানবে না

ধাঁধানো রঙে চেনা চেনা মুখ সব, সব মুখে আপন ফাগুন, রঙবন্দনা রৌদ্রলেখায় যে নাম আলপনা করা ঝাউময়ী জমাট সবুজ ওরকম লীন কারো মুখ খোঁজো দীপ্ত আবির নয় দোল হও আকাশকাজল মেঘ তারার আড়াল মত কালো রূপটান নাবিকের দীর্ঘ ভ্রমণ শেষ, তার চোখ আর দূর তাকাতে পারে না নদী আর ভ্রুরেখায় অচেনার বাঁক তবু কীর্তিনাশার তৃষ্ণা... নাবিক জানে না, আদিম সুর্মা-পানকৌড়ি কোনো চিহ্ন রাখে না তার পথে যাত্রার প্রবর্তনা রেখে যায় যখন সে ডুব দেয় নদী আর বনশ্রী পথে জোছনার উৎসব ভিড়ে সেই ডুবসাঁতারি আর লক্ষ্য রাখে না এই খেলা জানবে না তৃষ্ণার মানে আর অভ্যর্থনা এক নয় যাপন, দেখানো বন্দনা স্বপ্নের কোন্ রঙে অচেনা পাখির পাখনা দোল জানবে না দোলপূর্ণিমা দেখা হলে অজানা জ্যোৎস্না আর কেউ দেখবে না

মিসিং

প্রাপকের নাম আর ঠিকানা লিখে দিলেই চিঠি পৌঁছে না। ডাক পিয়ন কেমন আছে জানা প্রয়োজন। যেমনি জানা প্রয়োজন তোমার হাসি কেমন আছে, তোমার কান্না আর কেমন ছায়ায় মোড়া তোমার চোখের পথ! কি ঠিক ছিল কোথায় বেঠিক এইসব তর্ক আর শোরগোল এক পাশে ঠেলে দিয়ে আমরা বুঝলাম একটু ঘুরে আসা প্রয়োজন... সেই ভ্রমণে সেগুন অরণ্যে জ্যোতিপাখি দেখে নির্বাক হয়ে গিয়েছিলে। কারো কাছেই ধরা দিলো না সে! তাকে ধরতে চেয়েছিলো এমনকি দক্ষিণ বাতাস, অবেলার বর্ষণ এবং তুমি। পাখি উড়ে গেলে এই রুটিনবসন্তে পড়ে রইলো যুগল কান্না আর একটা হুডখোলা ভেজা রিক্সার নিঃসঙ্গ বেল-এর মনটোন। ============= ৫ মার্চ ২০১২

অন্যকোথাও

আর আলোরও আচ্ছন্ন লাগে মেহগনি পাতার নিবিড় দূরের ভূখন্ডে তাই সন্ধ্যার রঙ বারোমাস জীবনের থেকে দূর কুহকীর দ্বীপ প্রহসন থেকে দূর প্রমূর্ত ইচ্ছের দেশ দিন তুমি ঘুমিয়ে যাও এবারে শঙ্খ নৌকোয় ভাসাবো জোনাকির আলো ও পাপ, শিকারী তাঁবুর যুগল ছায়া আর সাথে নেব ইক্ষুর মদ হেমন্ত তরুণীর নাচের পরব দূর শাদা পালে যাও ঈর্ষার নাও আমারে নিও রে মাঝি- মেঘলার দ্বীপ যাবো নাগা প্রাচীনের কাছে লুণ্ঠিত হলে হোক যা-কিছু আমার গৈরিক বসনে যাও দিল বাউলের নাও নিয়ে যাও যেইখানে এত সুরে কথা বলে আদি শৈশব মাঝি তোমারে শোনাতে রাজী নুলিয়ার অথৈ মরন, মায়াবী ঘাতক আছে বলে রাখি- ঐখানে মেঘলার দ্বীপ, ডুবোচর পথ... শব-ডুবুরী আমি পথ চিনি নিয়ে যাও যেইখানে এত ভোর ভাসিয়েছি আহির ভৈরব

খেয়ালী লেখারা...

{১} কাঠদস্যু হানা দিয়েছিলো চন্দন বনে লুটেরা কুড়োল ঝুলিয়ে রেখেছিলো তারপর রাত্তিরে ডেরায় ফিরে ... সুঘ্রাণে সুঘ্রাণে তার আজ অনিদ্রা রোগ {২} দোলনায় দোল দেখে দেখে কিশোর ছন্দ শিখেছে {৩} পুষ্প অধীর দেখে, কার হাসি থেকে প্রজাপতি উড়ে উড়ে যায় হাসিন পাখায় {৪} দক্ষরেখায় আটকে আছে কে কে? {৫} এবার সব কৃষ্ণপক্ষের কালো তুলে নিতে পারি দাহকাল অচেনা সময় নয়, এবারও বুকের দাহ দুর্বহ নয়; এবারও ভবিষ্যত বলে দিতে পারি, -- মনপুরা দীঘিতে ডুব দিয়ে পারঙ্গম শ্বাসে তুলে আনব মোহর কলস; অগ্নিযুদ্ধে আমি সেই রূপকলসে নেব জল। মোহর তোমার। {৬} তাপমাত্রা বাড়ছে ফ্যান, এসি পুরোদমে এবার হাতে বোনা হাফ সোয়েটার তুলে রাখি তুলে রাখি আঙুলের কারুকাজ কাছের অভয়, গ্রীষ্ম অসহ্য সময়। {৭} কী ভেবে যেন, ঠোঁট ছুঁইয়ে একবার নক্ষত্রে উড়িয়ে দিয়েছিলাম রুপোলি কাগজের প্লেন ! {৮} আজ এই সবুজতম বৃক্ষ হোল তোর ঘুমের আশ্রয় হিরন্ময় পাখি ...... শ্রাবণ নিবিড় ছিলো {৯} আর এইসব সুচরিত বসন্তদিনও একদিন বর্ষামুখর হবে, জানি {১০} একটা আলোচিল পথ ভুলে গেছে তার পিছে উড়ে উড়ে দিন হারিয়েছে {১১} দিন যায় দিন মুছে যায় আমরা চেপেছি শেষ সন্ধ্যার ট্রেন দেন-দরবার, গল্পকথা, প্রাপ্তি- অ...

বোধন

রাত্রি বোধনে এলে জানিও যেখানে ছোপ ছোপ চিতারা ঘুমিয়েছিলো বনপলাশের আঙ্গিনা, সেখানে আরতি হবে, এসো। পায়ে পায়ে মাড়িয়ে যেও আলোর পৌরুষ পর্দা রেখো না। অরণ্যে লুকায় না কেউ অরণ্যে কেউ মুখ ঢাকে না। পুরো প্রচ্ছদে রাত্রি এনে দিতে সব কবিতাকে শিখিয়ে দিও চরসুন্দরে বসবাস- যেখানে চুপচাপ শীতের পাখি মন ভোলাতে জানে না। সেখানে আরতি হবে, এসো। ..................... সোম, ২০/০২/২০১২