পোস্টগুলি

নীলগিরি মেঘ করে যাবো

চুল বাঁধা দেখে, বিকেল নরম আলো -- রাতে চোখ নেই - দিনে ঘুম নেই, ভালো? শরীরে শ্রাবণ নামাবে শ্রাবণী মেয়ে গালের বেলিতে চুম্বন ছোঁয়া পেয়ে। নৌকো আমার, তুই তার শাদা পাল জল-কোলাহলে নাচমহুয়ার ডাল। চুল বাঁধ আর দুটি হাতে তোল্ নাচ, উনিশতো তুই, স্তন গন্ধী আঁচ। কবিতা তো গড়ি গান যার পরিচয় তুই তো শিশির, না তুই বৃষ্টি নয়। নাহয় বৃষ্টি, ভেসে গেছে চরাচর ঘনমেঘ ডাক- মাঝি আমি তারপর। আমার চাই না শীতরোদ ভালোবাসা অনিতা বাতাস হলদে ফড়িং আশা রূপশালী ধান প্রাণের দেউটি ভোর সূর্যের শিখা জোর আনে প্রাণে জোর নীলগিরি মেঘ করে যাবো মেয়ে শোন্ চোখের আষাঢ় দেখবে না কোনোজন

স্নান গান

ধ্যান কখনো আলো, সবিস্তার পাঠের কবিতা স্নেহ কোরো না আমাকে লেখকের মানস-শস্যের সংগ্রহ দেখো দেখো, একটি জবা তবু বেঁচে আছে তার রক্ত রঙে সূর্য প্রয়াণে গরুর গলার ঘন্টার মত বেজে চলেছে পুরোনো স্মৃতি, ......... দূরে আরো দূরে আমি দুটি চোখে বহন করেছি আমৃত্যু অন্ধত্ব এদিকে প্রতিটি ভোরময় শাদা পাখিটির আনাগোনা অথচ পাখিরা দূরে থেকে থেকে মানুষ কে অবিশ্বাস করতে শিখে গেছে অথচ প্রতিটি ভোরময় গান, ওড়াউড়ি ............ তাই শাদা পাখিটির কাছে আশার পাখনা আছে হৃদয়ের কাছে উড়ে বসে আর কথাহীন সুর গায় প্রতি ভোর প্রতিটি সূর্যসকাল সময়ের যূঁথী থেকে রক্তে ফিরে আসছে শাশ্বত প্রবাহ গহন হৃদয় দেশে একটি পংগু শিশু সূর্যের দিকে হেঁটে চলে যায় ..... ডেকে যাচ্ছে স্নান গান এ তীব্র দাবদাহে

রিতিমা

এ কবিতা প্রণামি, রূপ দেখে রিতিমা এপিক লিখছি আজ কোনো বিস্মৃতি না রিতিমা কিশোরী তুমি, তুমি রূপমেয়ে ঐ চোখে ঘর করে আলো ছায়া পেয়ে মানুষ বিরহ লেখে আষাঢ় ভাষায় হতে পারে পূরবী সে, নদীজল গায় তারার শারিকা খোঁজে কাজরীর রাত তার সুরে নেমে আসে শেষ বর্ষাত রিতিমা এ কুহুডাক ভোর নিঃঝুম তোমার দু’চোখ খোলো - যাও যাও ঘুম বিউনি অধীর প্রেমে ওড়ে যে শিমুল শরত সকাল এই রিতিমার চুল সূর্যের লাল চোখ নেভে তারপর সন্ধ্যার নীল রঙে মোছে চরাচর নদীপাড় গ্রাম গায় গোধূলীর গান রিতিমা তুমিতো মেয়ে মাগরীব আজান আর নীল সাইকেল কালো দরিয়া ফেলে আসি তোর বুকে কাঁপেনি হিয়া মন ভার রিতিমার যায় নি আষাঢ় জাতসাপ কামড়ায় ঠোঁট রিতিমার

মায়াপুর

তৃণ কেন চাঁদকে দেখে সারাক্ষণ?  ঐ চোখ হচ্ছে মিউজিয়াম -  জাফরিকাটা জানালার পাশে বসে সে কেন চালায় তারার জরিপ?  এই হিম রাত্রিতে রবার্ট ফ্রস্ট আমার বেদুঈন উষ্ণতা অদেখা এক ঘোমটার চোখ সুখ এলেই তোমার কথা মনে পড়ে, তোমার গানে দুনিয়া বাউল ......  কাশ্মীর থেকে আনা পাহাড়ী ঘন্টাগুলো  এই চন্দ্রিমা রাত্রিতে বাজছে অবিশ্রাম। গোলাপঝাড়ের কাছে বসে আছি বারো মাস,  কিন্তু আমার সাধ্য কী আর ঐ রক্তরঙ বুকে মাখি!  বৃথা চেষ্টা করেছি তারার বর্ণমালা দিয়ে এ জন্ম লিখতে - আকাশের যত তারা, চেয়ে রয় নিমেষহারা......  সিমলায় সাজো ওগো অন্ধকার,  শীতের রোদের মতো স্নেহ দিয়ে দিয়ে সাজিয়ে দাও সিমলার সবুজ  তারপর প্রশ্ন কর, -  কেন মাতৃদেহ মমতা পায় যুক্তির বাইরে?  জীবন শুধু একটি গানের কথা  - মৃত্যু সে গানের সুর  শিশুর ছদ্মবেশে এইমাত্র ঈশ্বর চলে গেলেন তুমি বুঝি তাকিয়ে দেখবে না, মায়াপুরের গীতা তোমার বুকে লীন!

ড্রিমার

আমি সময়কে আর শিখতে চাই না কারণ যেখানে তোমার গান শেষ হয় সেখান থেকেই বৃষ্টির শুরু আর বৃষ্টির শব্দ কী মিউজিক্যাল! পৃথিবীর গোপন গন্ধ উঠে আসে সাত ঘন্টা বৃষ্টির পরে আসলে মনে রাখা দিয়ে অর্চনা হয় না এই যে, ইন্দোনেশিয়ান বাটিকে আঁকা আকাশ আর্টিস্টের অ্যা হার্টব্রেক অ্যাা ব্রাশস্ট্রোক এই ট্রপিক্যাল বৃষ্টিবন এই বিভোরবিভাময় বৃষ্টিবনে কিছু বলার জায়গা নেই আর এ স্থানটি শুধু কান্নার। সময় চলে যাক এবং সে একটি মিথের মত কাটিয়ে যাক নিজেকে ......... তোমার চোখকে আমি আমার ভবিষ্যত সন্তানের মুখ মনে করছিলাম, আমাকে ক্ষমা কোরো

সিরাজের কবরের প্রদীপ

তোমার চোখ জুড়ে বর্ষাকাল, আমি তাতে ঘুমিয়ে পড়ি কিন্তু দেখো কেরোসিনের আগুনের মাঝে একটি প্রজাপতি তুমি বসে আছো নিশ্চুপ একটা কুকুর ছানা, তোমার ভ্যানেটি ব্যাগ নিয়ে ছুটে আসছে আমার দিকে ..... শিশুর স্পন্দন চাই তোমার হৃদয়ে তুমি এখনো আমার চোখ এ্যাস্প্ল্যানেডের আলোর মত উজ্জ্বল অজস্র শাপলা ফুল নিয়ে এই রাতাঁধারে নৌকো চলছে তার পালে স্মৃতিবাহী শাদাকালো ছবি মনে পড়ে নৈনিতাল – পাহাড় আর পাহাড়, অজস্র পাইন আর একট মিষ্টি হ্রদের দিন মনে পড়ে তোমার? আমাজনের গহীন অরণ্যে আদিবাসীরা ঘোর অমাবস্যার রাতে আমাদের নিয়ে গোল হয়ে নাচছে বকুল বিছানো পথ থেকে তুমি কত উঁচুতে দাঁড়িয়ে আছো হে অন্তরীপ? সমুদ্র হয়েও জীবনের সাজ আমি চাই নি অথচ এই কালো ঘন রাতে আজ সিরাজের কবরের প্রদীপ............... কেরোসিন দাহ

বনবাস

কিছু পাখিকে খাঁচায় মানায় না, তাদের পাখা এতো উজ্জ্বল, তাদের গান এতো বন্য এবং সুন্দর। তুমি সেই পাখি, আর রাত্রি এসো না আর দিন - বলে বলে তুমি দুই চোখ ভিজিয়েছিলে। সূর্য প্রণামে তুমি বলেছিলে- হিম পাহাড় হাওয়া তোমাকে কবিতা লিখিয়েছিলো। বলেছিলে তুমি, দিন-রাত্রিবাস শুধু তোমার সাথে আমার। দক্ষিণমেঘ নামলো যখন, নীল সুনীল কবিতা চাই আমি। এই মনকেমন সন্ধ্যা আর এই চন্দনঘন্টায় আষাঢ়ের গান হোক আজ। অন্য পুরুষকে তুমি আর ভাবতে পারবে না, কারণ তোমার যত কল্পনা, ততটি অক্ষরে প্রণয়স্বপ্ন শুধু আমার। সোনাঝুরি হাট থেকে কেনা দুল তোমার কানে আর তোমার মুখরিত শ্বাস কোটবাড়ির সবুজ সেগুনে মাতোয়ারা। তুমি এই সন্ধ্যায় মহুয়া খেয়ে হিরামন ...... কালের ক্রীতদাস না হয়ে তুমি এই কোটবাড়ি সবুজ বনে চকিতচোখ এক পাখি... তোমার মত কেউ এই পৃথিবীটাকে দেখে না তাই তোমার গল্প অন্য কেউ বলতে অক্ষম। ভোর অন্ধকার করে থাকলেও, বিশ্বাস হচ্ছে পাখির মত যে কিনা আলোর ছোঁয়া পায় মনের মাঝে। গতকাল যেমনই যাক, আজ ভোরের পাখি কিন্তু আজকের দিনকে স্বাগত জানাতে নতুন সুরই ধরবে। আমিও পাখির মতোই নির্লিপ্ত, কেউ শুনুক না শুনুক- আমি গাইবো। আমি জানি, পাখি দেখতে হলে নীরব হতে হয়, ত...

হিজল বনে অলিখিত কবিতা

একটি হিজল বন খুঁজে পেয়েছে জীবন-মৃত্যুর সংজ্ঞা। আমার প্রশংসার প্রয়োজন কি ফুরিয়েছে তোমার? এই বয়সে এসে এরকম স্তুতিদান আমারও কি ভালো লাগে আর? একটি বসন্তের কবিতা লিখে ফেলে রেখেছিলাম। কোনো বসন্ত বেলায় তুমি পোড়ো একরাতে। তোমার মনে আছে? খুলনায় রূপসার পারে সেগুনের ঝলকানি আর তার মাঝে একটা ডাকবাংলো, তার চারদিকে কচি লেবুঘ্রাণ - অচেনা সে ঘ্রাণ, অথচ কত চেনা সেই পাখি হারানোর ব্যথা! সেই ঘরটিতে নদীর হাওয়ার তাজা গন্ধ আর গোধূলির ডাক...... কিছু দূরে ছোট ছোট সব ডিঙ্গি নৌকো বৃষ্টির হাওয়ায় উন্মন। সেই ডাকবাংলোর খোলা জানালা দিয়ে আসা জল মিশ্রিত বাতাস আর সূর্যাস্তের আলোয় ভরা সে ঘর, নীল বেডশীট আর বেলি দিয়ে সাজানো। সাথে আছে ভারী শাল কাঠের বার্নিশ করা সব আসবাব। সেখানে কবিতা নিয়ে গল্প করবো দুজন, সাথে মিহি করে কাটা ক্যানাবিসের সাথে ঝিম গন্ধের টার্কিশ টোব্যাকোর স্মোকিং পাইপ , আর সাথে JBL 800 Watt 9.1 সারাউন্ড সাউন্ড। সেই ঘরের ছাদে শাদা চড়ুইদের খুনসুটি আর ধীর পিয়ানো... তারই সাথে একটু পর যখন রাত্রি হয়ে আসে তখন ক্যানী রজার্স... লেডী জীবন-মৃত্যুর সংজ্ঞা পেরিয়ে আমি সবসময় তোমাকে দেখেছি ঘোর বর্ষায় মালিনীছড়া চা বাগানে রাতে, যে...

মনে আছে

আকাশের প্রিয় নীল, দারুচিনির প্রেম মিষ্টি জ্বালা খাঁচার অন্তরায় মুক্তি, বৃষ্টির বন্ধু প্রেম কাল রাতে ঘুমের আগে ভাবা ছেলেবেলার পুকুরে সাঁতার শান্তিনিকেতন থেকে দেদীপ্যমান প্রকৃতি আর প্রেম, প্রেম আর কবিতা গ্রামের নিজের ঘরে শীতকাল কাঁথা মুড়ি দিয়ে - ভোরে শ্মশান পারের গাছ থেকে স্পষ্ট শোনা বারবার শোনা, অজানা পাখির ক্রমাগত ডাক নামটা জানি না পাখির, এখনো জানি না সে নাম তবে ডাকের সুর স্পষ্ট মনে আছে

নিষেধ

লীন করেছি আমি বুকে এই বুক বন্দীশালা যে শ্বাস ইন্দ্রিয়ে এলো না সে শ্বাস বুকে চিহ্ন রেখে বসে খুশি তার রূপ পালটায় তাই ভয় পাই খুব কিন্তু দীর্ঘ দুঃখরাতকে কীসের এতো ভয়? হৃদয় দিয়েছ তবে আর কান্না কেনো? বুকে যদি আর হৃদয় না থাকে, মুখে তবে আর কথা রয়ে গেলো কেনো? আমার ইচ্ছে করে মৃত্যুর জন্য আর একটু বেঁচে থাকি আর একটু বেঁচে থাকতে চাই নীলঘুম দিয়া তুমি প্রাণ নিতে চাও কেনো? কেনো মন নিতে চাও বাতাস মিহিন ওড়ে তোমার ছন্দ নিয়ে মেঘাতুর বন হলুদিয়া পাখি সোনারই বরণ গায়, কালো পাঞ্জাবী পরা আব্দুল আলীম নয়া চর, যমুনার বুকে দেখে সবুজ ঘাসের বীজ- তার বুকে লীন তুমি প্রাণ নিতে চাও আর মন নিতে চাও, সুর তোল সন্ধ্যায়, শ্রোতা হয়ে রই ভাঙ্গা জমিদার বাড়ি সন্ধ্যা ছায়া ভাঙ্গার শব্দ শুনি আমি গান নই