পোস্টগুলি

দিয়ালা

মায়াডোরে হেসে ওঠে চিহ্নের টান আসিনি এখনো আমি পথ অফুরান আর কোন দেখা নেই ফেরা নেই তার ভুলে থাকা ভালো সেই কথা নাফেরার দুইটি শ্মশান চোখ ধারা তার সুর কাজলের রাত্রিতে দূর আনে দূর তৃষ্ণার মত কিছু গোপন আড়াল আঁধার মেলেছে এক মায়া ভরা জাল খোঁজ চলে নিদ্রার, হৃদয়পুরের মুখচাওয়া মৌনতা অন্তপুরের দেখেছি শুনেছি যত মিনতির ছাই শেষের মুক্তি আছে নিঃশেষে নাই কোথায় রাখব তারে কবিতায় নয় ছোট হবে ঘর তার খুব ভয় হয় এই যে অশরীরী তবু তার মুখ একটু শান্তি আনে একটু অসুখ অন্য দোলের দিন ঝিনুকের দুল নাচের মতন পাতা চাহনির ভুল তারপরও উদাসীন শব্দের কাছে শিশুর মতন কিছু চাওয়া পড়ে আছে

পত্রালিকা - ২

১. নাকি অনিবার্য ছিল এমন ভোরে শোকের পোশাক, চতুর ফ্যালকন-- তার নিশ্চিত ছোঁ ! অথচ এমন অমল ভোর এখনও অবুঝ, বাগানে বাগানে তার আঙুরলতার মোম- প্রাণ দিয়ে সুরভিত। এখনও তুমি মনে কর, হঠাৎ শূন্য ঝিলে নীল নৌকো দেখে ফেলেছিল আমাদের অসতর্ক চোখ? ২. এত যে কাছের ছিল পাহাড়গন্ধ মনের আপন অভিমান... সব বোধ শূন্য হলে-- শেষ হয় দোয়েলের নীলিমা সাঁতার সব নাচ মুছে ফেলে চুপকাঁদে মনের হারেম সব বোধ শূন্য হলে শূন্য হলে প্রেম। ৩. এই চোখের পলক পড়ার মত নৈঃশব্দ্য, আনন্দা তোমার মুখশ্রী মনে পড়ে-- রাত্রির মত বিনত নক্ষত্রের শাল জড়ানো অন্ধকার তার নিচে এই ঘুমদিঘী, এই মায়ার মরাল... তোমার মুখশ্রী মনে পড়ে, আনন্দা-- নিয়তির মত ভ্রুক্ষেপহীন। ৪. সারাটি দিন স্তব্ধতার কোলাহল, বিকেলের চায়ের মত অলস বেলায় প্রতিশ্রুত বেলির বাগানে বেজে ওঠে সুর-- সেকালের লুপ্ত চতুর্দোলার আলপনার মত হারানো হারানো; রাত আসে- এই মাঘে জোনাকির করুণ আলোয় ফুটে ওঠে কার নির্জন বুক, এক মাছরাঙার উল্কি... ৫. প্রাচীন কথার কাছে ফেলেছি যে চোখের নোঙর, নিজের ছায়ার সাথে করেছি দুঃখবিনিময়। মুখ ফিরিয়ে আছে যে অনন্ত সন্তুর তাকে আমি শুনে যাব মৃত্যুর আগে।...

পত্রালিকা - ১

১. শীতের সময় ওড়ে পাখির ঝর্না থেকে নেমে আসে গোলাপী কার্ডিগ্যান ডাকে, ঐখানে ক্যাম্পফায়ার, এসো ২. মেঘলাচোখের ছেলে সুর বেঁধেছে ভীষণ গোপন একলা শোনার গান শুনেছিল যে সেই তো আপন ৩. সহস্র রাত্রিবাণে অন্ধ হওয়ার পর জ্যোৎস্না চোখের সাথে চেয়ে বলেছিল চেয়ে থাক কেন, আলোর চাতক? ৪. এই সন্ধ্যায় হিমসরোদের তান চাপা রাত্রিতে মিশে যাবে এক গোপনবাসীর কাছে সেই কান্না লেখা আছে ৫. পিয়ানোর রিডে আড়ষ্ঠ তোমার আঙুল, কেন দাও শীতের দোহাই? সুরের বিরহ বড় লাগে রাত ফুরোবার এত আগে... ৬. নদীর কাছে গেলাম নদী তো আপনহারা ভাসিয়ে নিলো এই চোখে ঘর করা হরিণ তনিমা একাশ্রিতের স্পর্ধা, ছায়ানটের বোল ... হারিয়ে যাব বলে নদীর দীক্ষার্থী হলাম গোপন দেরাজ খুলে উড়িয়ে দিলাম সব পত্রালিকা- চন্দনার পাখায় পাখায় ৭. একটি স্নানের নাম শাওনচাঁপা ৮. স্মৃতির বন্ধু তারা, মৃতের ছবির মত নীরবতায় আঙুলে আঙুল রাখে কত প্রীতি আর অভিমান ! ৯. এই পথ হারাবার সুধাময় কবিতার যার কাছে ঠিকানা হারিয়েছি বারবার ১০. একটা সন্ধ্যা মন্দিরের দীপে সিঁদুর পরা মেয়ে তার আঙ্গিনায় আরতির কাছে রেখে এসেছি সকল মুদ্রা শত পাপড়ির বাঁক এখ...

হারানো চিরকুট

১. নায়াগ্রা থেকে ফিরে এসেছি অস্নাত ঐ চোখ স্নানঘরে ২. স্যুভেনির ............ উড়ে আসছে হিমগন্ধী শীত মন থেকে মনিপুর মনিপুরী শাল ৩. পালিয়ে গেছি মস্তানা হাওয়ায় ভাব , জ্যোৎস্নাচুর রাত নিয়ে গেছি সাথে করে। সমাহিত সব কবিতাকে সাথে নিয়ে তরুমুগ্ধ গয়ালের শরীরে হেলান দিয়ে দেখছি যাপন সুদূর অরণ্য পাখিশালা। ৪. তোমারে দেখে নাই আর যারা-- জানবে না আলো , মানবে না গহীন গোপন ; দূর দিশারী আঁখিতারা ধ্রুবতারা ধ্রুবতারা। ৫. চোখ যেখানে থাকে দৃষ্টি , থাকে বিস্তার -- নদী, গন্ধরাজ , লাল রবীন। থাকে পৃথিবীর সেরা চিত্র শিল্প --   তোমার মুখ। আর তার মণি হারিয়ে গেলে সবকিছু নিকষ অন্ধকার - সবাই হারায় শুধু থেকে যায় দীপ্র তোমার মুখ হৃদয়ের কোমলে খোদাই ৬. আমার আকাশ রং থৈ থৈ ইচ্ছে ঘুড়ির নাচের মতই একটানা লাল কৃষ্ণচূড়া লাল রেখেছে শরীর ভরা খেলবি যখন রঙের হোলি ঝাপসা চোখে কই পালালি চলে যাওয়া জল হলি তুই নদীর মত হোস না যতই সন্ধ্যা স্নানের সঙ্গী হব স্রোতের মত জড়িয়ে রব ৭. তোমার ঘুমের মাঝে আমি জেগে থাকি। নূপুর থামলেও যেমনি নাচ। তোমার অপেক্ষারা লাজুক , ভঙ্গ...

কথা কিছু কিছু...

১. আর আমাকে কিছু বলতে হবে কেন ? প্রার্থিত আকাশ ছেড়েছি আমি দলছুট পাখি , পেয়েছি আড়ালের বর্ণপরিচয়। জ্যোৎস্নার উপচে ওঠা আলোর অনুগামী বলেই হারিয়ে গিয়েছি। আর আমাকে কিছু বলতে হবে কেন , বন্ধুমণি! ২. পুষ্প আরতির অপেক্ষায় নীল প্রজাপতি জানালায় চোখ মেলা বাদলের সুর খেলা , মিতালী পড়তে জানে তোমার চোখ। আমারও অপেক্ষা একটা পুষ্প আরতি নীল প্রজাপতি মোহন বাতায়ন ৩. ডুবতে চেয়েছি অথচ সে সময় ছিল ভুল সন্ধ্যার আলো , ধু ধু বালুচর ৪. যন্ত্রণার চেয়ে তীব্র বিঁধে আছে প্রীতি তারার মত অন্ধকার হরিণীর মত ব্যর্থ ছুট জীবনের যত ক্ষতি... ৫. খিলখিল তারাটির সাথে এ চোখের আলো বিনিময়ে এলো অঝোর শ্রাবণ ৬. দেখা মানে অরণ্যে অচেনা ফুল জানা মানে ছুঁয়ে ছুঁয়ে... দূর আর স্মৃতি মানে গহীনগন্ধ তার ৭. মায়া আর অভিমান ফুল হয়ে ফুটেছে , আর কে কাজল মেখে রাত্রির মত চেনা ! ৮. দূরে থেকে অন্তরে দেখেছিরে যারে , রাতের কিনারে চোখের দেখায় তারে যন্ত্রনা বাড়ে ৯. হারিয়ে গেছে বাড়ি ফেরার পথ বিদায় বিদায় বলে বাউল হয়েছে সন্ধ্যারা ... আমরা ১০. আমার বেদনার রক্তজবা ফুটে আছে গহন রাত্রির বাড়ি...