পোস্টগুলি

পৌনঃপুনিক

আজ ভোরের পাঠশালায় হঠাৎ ছুটে এলো এক শব্দভেদী পাখির শিস রূপের মানুষ তুমি পোষাপাখির ঠোঁটে বুনে দিয়েছিলে একদিন বুনোফুলের ব্যালাড সে তবু আজীবন বেহাল বৈরাগী সে তবু লেবু ঝাড়ে হিম হয়ে থাকা লুপ্তগন্ধ জাতিস্মর পাখি, তার মনে আছে হাবেলির গুপ্ত কুঠুরির যাপন দেরাজের আড়ালে থাকা গুপ্তির ক্রিড়া তার মনে আছে মায়াবীর কাছে বেশুমার পড়ে ছিল কত কাতর প্রসাধনী আর মণিকারের হাহুতাশ তার মনে আছে অভিসার কোচোয়ানের খুনের বৃত্তান্ত তার বর্ষা পাওয়া কান্না পাওয়া অবাধ অরণ্যে আজো বনমালী রূপবাঁশির ঝিলিক আদিম সুরের অ্যালেগ্রি পুরনো ইতিহাস ফিরে ফিরে আসে ট্রোজান ঘোড়ায় চাপে আরো আরো রক্তের দিন

সন্ধ্যাদশমী

আজ শুধু যাই যাই সন্ধ্যাদশমী পথভোলার উড়োচিঠি শেষ আলো মেখে উড়ে আসে রক্তসিঁদুর লাল তিতাসের পাড়ে ধুলোঝড়ে রোজকার খবরাখবর, বৃত্তান্তে শেষের প্রচ্ছায় আজ শুধু যাই যাই বিরানার চর চলাচলে নিঃসঙ্গ লণ্ঠনের একটি আলো জ্বলে শান্তিপুরবাসী ও আমার পরিখার ঘুম তুমি কত জখমেও দুর্বিনীত এলে কোন্ মন্দিরায় বেজেছিলে নিদ্রাকুসুম সঙ্গোপনে মূর্ত মায়ার পর্দা দিলে খুলে এ সফর রাতের সফর ফন্দি-ফিকির আমি ভুলেছি সকল কেউ জানেনি ফুল কাটা মন্দির উঠোনে কার পায়ের রক্তচিহ্ন ছাপ চলে গেল বিরানার চর কেউ তো জানেনি আড়াল কোথায় কোন্ বিজনের মুখ ধূপ থেকে ছাই নিলো শোকপুষ্পের নির্যাস নিয়ে বিসর্জিত হলো এই সন্ধ্যাকাল বিমনা তিতাসে

সাপে কাটা

লছমির মৌ-পলাশ ঠোঁটের দিকে তিরতিরিয়ে উঠে এসেছিল যখন গুপ্ত গর্ত থেকে অবিশ্বাসী খড়িশ হায়, ভাবুনে কিশোরী ! মিথিলায় তখন ছিল না কোন গারুদার ভ্রুক্ষেপ এমনই এক সুপ্তিদায়ী সময়ে দুর্নিবার বিষ নিয়ে - হানিচেস্ট; একটা দুধরাজ তার চেড়া জিভ বার করে সন্তর্পণে এগিয়ে যায় ফু্লেশ্বরী নদীর মোচড়ে মোচড়ে দুলে ওঠা পানশি মনে রাখে রাত্রিডোর শিরশিরে অনাঘ্রাতা বুকে পুষে রাখে আজীবন তীব্র দহন মাঘ

অনুকাব্য

১। জেব্রা ক্রসিং এর শাদা ডোরা লাল আর এইসব হত্যাপ্রবণ প্রগতি ২। সেদিন ভূমিকম্পে নাড়িবদ্ধ মা আর শিশুকে আগলে রাখল এক মমতাময়ী নার্স -- আমরা আবার বাঁচতে শুরু করলাম ৩। একদিন বোয়িং জিরো জিরো সেভেন-এর পিঠে চড়ে উড়ে আসুক বিলুপ্ত সব পাখি ৪। একটা শহর মানে বহু হৃদরোগী ৫। এল,ই,ডি - প্লাজমায় গেরুয়া বড় অনুজ্জ্বল

এখন তো নিতে পারো

মেলো না তো আদি জাল আমাকে দিও না বরাভয় এখন আর সবকিছু ঈশ্বরাধীন নয় এখন সবকিছু দুষ্প্রমেয় ফরমালিন হ্যাংওভার...শনি রবি সোম – সাতদিন যখন আমি অন্ধকার - অন্ধকার আমার শহর তখন তুমিও অহল্যা রূপমতি আমাকে দেখিও না মুঠোখুলে চুমকি রাতের কম্পাস কবিতা গাঁথার মত মুঠো মুঠো খুশি শুধু এই সায়াহ্ন সুন্দরে বিলীন হতে দাও দেখ এই অন্ধকার ঘনঘোর নেমেছে পাতাল আমার মুঠোতে দুলে উঠেছে এখন একবন পাতাভরা কৃষ্ণচূড়া তাও তুমি দেবে না পরিচয়? তুমি আধখানা সন্ধ্যার আলো নেবে না আমায়? আমাকে নেবে না কোনো আব্দুল আলীম, সতীনাথ জড়াবে না কুয়াশা রেশম কোনো ফুল্লকুসুম ভোর কে আছে আর বন্ধু আমার, হলুদিয়া পাখি... কোল পাতো আমাকে নিয়ে নাও সায়াহ্ন নিরাময় করে দাও এই শহরের যত মাথা-বালিসের সিজোফ্রেনিয়া এখন অন্ধকার সেরিমোনিয়াল নাচের ভিড়ে ফুর্তিবাজ শহর এখন তো নিতে পারো দিতে পারো এক ছোবল শঙ্খচূড় বিষ রক্তমুখী ছারখার

এইসব সময়েরা

এইসব সময়েরা মনের মাঝে রূপশাদা পাল উজানে ভাসানো সকাল। অন্তরে তন্তুশালা; শাদা-কালো বয়নের দিন হলদে সুখের মত জিভের সুড়ং বেয়ে এক ঝুম নীল এখন নাটক শেষে ঘুমিয়েছে অপেরা পাড়া নাটকের গোপনতা ছড়িয়েছে ছুকরিবাতাস আহ, অপেরা হাউজ – সব চোখ মোম, গলনপ্রবণ... কালো পর্দা নেমেছে নীরব আড়ালখানা আড়াল কোরো না তবু ...... দুই চোখ মেলে ধর দৃষ্টি বিজনে দূর সুদূরের পথ রক্তডোরে লেগে আছে ভোর তোর রশ্মির চুম্বন স্নেহডোরে প্রত্নতৈজস রঙ সান্ধ্য সীমান্তে রাত্রিমতো চোখতারা তোর... স্থির তারওপরে বৃষ্টিটুপুরে ছায়া তোর অন্ধকার করে আসে তন্বীতুফান ! অন্ধকার করে আসে অতি দীর্ঘকাল ...... ................... সোম, অগাস্ট ২৯, ২০১১

সে দুপুরে উড়ে যাওয়া চিল

এই উড়ানের কাছে খেলা আছে সাপ-মই-সাপ বিকেলের দীর্ঘ ছায়ায় আছে ফকীরির গান সে আমারে বলেছে তালাশ সে আমার মোহের কাতিল বিজোড় চক্রান্ত আদি-অন্ত দুপুর সে দুপুরে উড়ে যাওয়া চিল উড়ে যাও এরকম সুনিপুণ গুপ্তি উড়ান ছায়াছাপ রেখে যাও সৌখিন নক্সানবীশ ডানায় রৌদ্র চিহ্ন বিনীত আকাশ ডানাকাটা বাতাসের শিস তুমি যত উড়ে যাও দলছুট ক্রীড়ার উড়াল আমি ততো তিনসত্য বৃক্ষে বসে থাকি ততো খুঁজি বৃক্ষ আশিস মৃত্তিকার কাছে পিরামিড সুপ্তি চিহ্ন-ছাপ প্রদোষের ধী্রে আছে শিকারের রক্তকাহন সে আমারে বলে মুসাফির সে আমারে দেয় অভিশাপ ঋষিমুখ করি করজোড় আমি কোন্ ডাহুক ডুবে বাঁচি ! বলি নাই তারে আমি কোন্ মায়া ধ্যানযোগে পরাজিত আছি ভরে দাও এরকম ত্রিসন্ধ্যা পাণ্ডুলিপি শতরঞ্জ ঘোড়াদের চাল নগরীর থিয়েটারে দহন নাটক ছায়াময় কবিতা সকাল আকাশটা থিতু হলে জলভারনত হলে দগ্ধ ডানায় পাবে দোলরঙা কাল

মনসংহিতা

আকুল দেখেছে আলোকসাঁই গীতি জাগা পঞ্চমে মেঘরুপালি তান সুরলেখায় ছবি কার তড়িৎলতা ! জাতিকার বিন্দু-বিসর্গ নিয়ে রূপকবিতার শিষ এ যে কোনো শ্রীভোরের টান, বালি-কথকের অভিমান যখন সে গেয়েছিল মায়াতানে - সুবলং পাহাড়ে যখন রঙ তারার আড়ং সে তখন জুঁইজোছ্নায় পিয়াইনের বুকে সচল আলোর পানকৌড়ি যার উধাও হেমন্তদিন; অ্যাসফ্যাল্ট জঙ্গলে সেও আকাশে জাগে বর্ষা মদির এইদিকে দোহারের পাড়ে ঘোর পদ্মার বিস্তার তার বুকে মাটি আর মানুষের লুপ্তিবিষাদ সে তবু এক জলটুঙি হয়ে থাকে যার দিকে হৃদয়েরা হেঁটে গিয়ে এই রাতে আলো হয়ে আছে মনসংহিতার কোকুনে নাচ মুদ্রা ঘুম, নীল ভেইন্, শার্পনেল... পদ্যখোর ঝিম লেগে আছে অনন্ত রাত্রি সময় কথক, কন্যাকথার মত একটি অভিমান ধুলির ডাকবাক্সে পড়ে আছে কিংখাবে লেগে আছে রক্তপুরাণ...

এইতো সন্ধ্যে

এইতো সন্ধ্যে - একটা নিজের সুর নীল স্প্যানিশে ঘুমগান ফিরে ফিরে কানে। লালাবাই, এই তো নিরুদ্দেশ। চকোর শিউরেছিল দ্রাক্ষার স্বাদ; সে এখন কী বলেছে ধীর আঁধারের সাখে জানা নাই এইতো মাছরাঙা জল যেইখানে জীবনবিস্তার আমার মুখর সন্ন্যাস; তালের ডিঙার মত ধানের শরীর ঘেঁষে মিহিন বয়ে যাই আর রাত্রি এসো না আর দিন

সেই থেকে আমরা...

বৃন্দগানে খুলে যাচ্ছে বাঁধন, আমাদের সপ্তম আকাশ মেঘবালিকার চুল চেরা আলো ভিজিয়ে দিচ্ছে নেত্রকোণ আমাদের চোখ আজ ভ্রমর কপোত; দূর দূর গন্ধরাজের বন থেকে ভেসে আসছে ঘুমপনা – মায়াশোক... ত্রিপুর পাহাড়ে থির জমে ছিল যে পাথর সন্ধ্যা এক অসিতামেঘ তাকে ভুলিয়ে এনেছে এই অশরীরীর দেশে সে আরো চুপধ্যানে হয়ে যেতে পারত একটি প্রত্নরাত, প্রাগজ্যোতিষপুরের ভোরদুলারি দোয়েল কিন্তু সে হয়ে উঠলো বহ্নির রক্তবাহার একটি মৌন মোম থেকে সে হয়ে উঠলো দাবানল তার তাপে আচমকা জ্বলে উঠলো সার সার কমলার বন স্বপ্নজেব্রাদের খুরে টগবগ উঠে এলো যাবতীয় নিঃসঙ্গ দুপুরের ধুলো সে রোদ-বৃষ্টি জলের মত দ্যুতিময় কিন্তু আশ্চর্য শান্ত হতে পারত কিন্তু সে হয়ে উঠলো নাচ তার নৃত্যপরতায় ঘটে যেতে থাকল একের পর এক দৃশ্যবিস্তার অন্ধ্র শ্যামল থেকে চোখের কাজল বন্যবৃত্তি থেকে কান্ট্রি সং, ব্লুজ, রবিগান... যাবতীয় সুখ – সুখের অসুখ জ্যোতির শব্দমালা থেকে প্রতারিত খরগোশের চোট দানপত্রে ‘জীবন’ লিখে দেয়া শিমূলের উদ্ভ্রান্ত হাওয়ায় লুট..... নক্ষত্র লগ্ন আমরা সেই থেকে তার দীপ্র আলোয় অন্ধ তুমুল