পোস্টগুলি

অনুবাদঃ Beautiful Dreamer by Stephen Foster

আমায় দেখে জাগো তুমি স্বপ্ন দেখা চোখ তারা-শিশির অপেক্ষাতে অপেক্ষা শেষ হোক রুক্ষ যত শব্দ ছিল দিনে শোনা যেত ঘুমপাড়ালো জ্যোৎস্না তাদের সবাই নিদ্রারত অপরূপা স্বপ্নবাসী গান তোমাকে ঘিরে শান্ত সুরে একটু ফেরো প্রার্থনারই মুখ এই জীবনের সব কোলাহল এখন গেছে ফিরে আমায় দেখে জাগো তুমি স্বপ্ন দেখা চোখ স্বপ্নমুখী তুমি যখন এই সাগরের বুকে জলপরীদের মাতাল গান জলপরীদের ঠোঁটে জলকণারা ছোট্ট নদী হাওয়ায় জেগে রয় মিশে যেতে চায় সকালে উজল আলোকময় মোহন স্বপ্নচারী জ্বালো এই হৃদয়ে আলো ছোট্ট নদী আর সাগরে যেন ভোরের মুখ চলে যাবে তখন দেখো শোক মেঘেদের কালো আমায় দেখে জাগো তুমি স্বপ্ন দেখা চোখ ====================== "Beautiful dreamer, wake unto me, Starlight and dewdrops are waiting for thee; Sounds of the rude world heard in the day, Lull'd by the moonlight have all pass'd away! Beautiful dreamer, queen of my song, List while I woo thee with soft melody; Gone are the cares of life's busy throng, -- Beautiful dreamer, awake unto me! Beautiful dreamer, out on the sea Mermaids are chaunting the wild lorelie; Ov...

খবর

তার অশ্বখুরের নালের স্ফূলিঙ্গ - সেই আগুনরেখা চলে গেছে সীমানার ঐ পাড় গন্ধমৃগের বনে সূর্যবিগ্রহ হাতে নিয়ে মন্দিরে চলে গেছে রাত্রি তাড়িত পুরুষ এই শ্যামভূমির বেথুয়া শিশির বিন্দু বিন্দু সরে গেছে চিরপ্রবসন নূপুর মুখর নীলকুঠি পড়ে আছে এইখানে হায় ইউফোনিয়াস কুহু ! ফাগুনে ফিরে যাও এবার – একা নামগন্ধ মুছে ফেল তিলে তিলে প্রসারিত নাম অনন্তশীতের কথা মনে রেখো না সীমান্ত ডিঙিয়ে চলে গেছে যে তার দৃষ্টিসিক্ত মুখ নিয়ে বসে আছে এই পাড় টেরাকোটার চিহ্নগুলি তুলে তুলে নিয়ে গেছে গন্ধমৃগের বন সহবন্দী করে নিয়ে গেছে কাঠশিল্পীর পেন্সিল রঙের বণিক তুমি নিয়ে গেছ কৃষ্ণচূড়ার অক্ষর, মাতোয়ালা টেলেফোনি ধৃতিমান! ফেলে গেছ প্রতারিত সংসার আর কৃষ্ণকোকিল পাখি তুমি বসন্তে ফিরে যাও, কারণ অশ্বারোহী বলে গেছে 'একঝাঁক পাখি স্বর্গচুরি রঙে উড়ে আসতেই হঠাৎ বৃষ্টি বৃষ্টি শ্যামল মুখের ওপর পড়ে মুক্তার মত দানা, তার ছড়িয়ে যাওয়ার শব্দে নেমে এসেছিল গহন বনের ঘুম একটা দিনকে নিয়ে মশালের মুখে ধরতে পারি চৈত্র ঝিলিক দিন আর সব মৌসুমে ছুড়ে দিতে পারি বহুবর্ণের ধাঁধা; বৃক্ষের সাথে কথা আছে, বৃক্ষ তুমি ঋষি আর আমি নদীকে ছুঁয়ে দিয়েছিল...

পৌনঃপুনিক

আজ ভোরের পাঠশালায় হঠাৎ ছুটে এলো এক শব্দভেদী পাখির শিস রূপের মানুষ তুমি পোষাপাখির ঠোঁটে বুনে দিয়েছিলে একদিন বুনোফুলের ব্যালাড সে তবু আজীবন বেহাল বৈরাগী সে তবু লেবু ঝাড়ে হিম হয়ে থাকা লুপ্তগন্ধ জাতিস্মর পাখি, তার মনে আছে হাবেলির গুপ্ত কুঠুরির যাপন দেরাজের আড়ালে থাকা গুপ্তির ক্রিড়া তার মনে আছে মায়াবীর কাছে বেশুমার পড়ে ছিল কত কাতর প্রসাধনী আর মণিকারের হাহুতাশ তার মনে আছে অভিসার কোচোয়ানের খুনের বৃত্তান্ত তার বর্ষা পাওয়া কান্না পাওয়া অবাধ অরণ্যে আজো বনমালী রূপবাঁশির ঝিলিক আদিম সুরের অ্যালেগ্রি পুরনো ইতিহাস ফিরে ফিরে আসে ট্রোজান ঘোড়ায় চাপে আরো আরো রক্তের দিন

সন্ধ্যাদশমী

আজ শুধু যাই যাই সন্ধ্যাদশমী পথভোলার উড়োচিঠি শেষ আলো মেখে উড়ে আসে রক্তসিঁদুর লাল তিতাসের পাড়ে ধুলোঝড়ে রোজকার খবরাখবর, বৃত্তান্তে শেষের প্রচ্ছায় আজ শুধু যাই যাই বিরানার চর চলাচলে নিঃসঙ্গ লণ্ঠনের একটি আলো জ্বলে শান্তিপুরবাসী ও আমার পরিখার ঘুম তুমি কত জখমেও দুর্বিনীত এলে কোন্ মন্দিরায় বেজেছিলে নিদ্রাকুসুম সঙ্গোপনে মূর্ত মায়ার পর্দা দিলে খুলে এ সফর রাতের সফর ফন্দি-ফিকির আমি ভুলেছি সকল কেউ জানেনি ফুল কাটা মন্দির উঠোনে কার পায়ের রক্তচিহ্ন ছাপ চলে গেল বিরানার চর কেউ তো জানেনি আড়াল কোথায় কোন্ বিজনের মুখ ধূপ থেকে ছাই নিলো শোকপুষ্পের নির্যাস নিয়ে বিসর্জিত হলো এই সন্ধ্যাকাল বিমনা তিতাসে

সাপে কাটা

লছমির মৌ-পলাশ ঠোঁটের দিকে তিরতিরিয়ে উঠে এসেছিল যখন গুপ্ত গর্ত থেকে অবিশ্বাসী খড়িশ হায়, ভাবুনে কিশোরী ! মিথিলায় তখন ছিল না কোন গারুদার ভ্রুক্ষেপ এমনই এক সুপ্তিদায়ী সময়ে দুর্নিবার বিষ নিয়ে - হানিচেস্ট; একটা দুধরাজ তার চেড়া জিভ বার করে সন্তর্পণে এগিয়ে যায় ফু্লেশ্বরী নদীর মোচড়ে মোচড়ে দুলে ওঠা পানশি মনে রাখে রাত্রিডোর শিরশিরে অনাঘ্রাতা বুকে পুষে রাখে আজীবন তীব্র দহন মাঘ

অনুকাব্য

১। জেব্রা ক্রসিং এর শাদা ডোরা লাল আর এইসব হত্যাপ্রবণ প্রগতি ২। সেদিন ভূমিকম্পে নাড়িবদ্ধ মা আর শিশুকে আগলে রাখল এক মমতাময়ী নার্স -- আমরা আবার বাঁচতে শুরু করলাম ৩। একদিন বোয়িং জিরো জিরো সেভেন-এর পিঠে চড়ে উড়ে আসুক বিলুপ্ত সব পাখি ৪। একটা শহর মানে বহু হৃদরোগী ৫। এল,ই,ডি - প্লাজমায় গেরুয়া বড় অনুজ্জ্বল

এখন তো নিতে পারো

মেলো না তো আদি জাল আমাকে দিও না বরাভয় এখন আর সবকিছু ঈশ্বরাধীন নয় এখন সবকিছু দুষ্প্রমেয় ফরমালিন হ্যাংওভার...শনি রবি সোম – সাতদিন যখন আমি অন্ধকার - অন্ধকার আমার শহর তখন তুমিও অহল্যা রূপমতি আমাকে দেখিও না মুঠোখুলে চুমকি রাতের কম্পাস কবিতা গাঁথার মত মুঠো মুঠো খুশি শুধু এই সায়াহ্ন সুন্দরে বিলীন হতে দাও দেখ এই অন্ধকার ঘনঘোর নেমেছে পাতাল আমার মুঠোতে দুলে উঠেছে এখন একবন পাতাভরা কৃষ্ণচূড়া তাও তুমি দেবে না পরিচয়? তুমি আধখানা সন্ধ্যার আলো নেবে না আমায়? আমাকে নেবে না কোনো আব্দুল আলীম, সতীনাথ জড়াবে না কুয়াশা রেশম কোনো ফুল্লকুসুম ভোর কে আছে আর বন্ধু আমার, হলুদিয়া পাখি... কোল পাতো আমাকে নিয়ে নাও সায়াহ্ন নিরাময় করে দাও এই শহরের যত মাথা-বালিসের সিজোফ্রেনিয়া এখন অন্ধকার সেরিমোনিয়াল নাচের ভিড়ে ফুর্তিবাজ শহর এখন তো নিতে পারো দিতে পারো এক ছোবল শঙ্খচূড় বিষ রক্তমুখী ছারখার

এইসব সময়েরা

এইসব সময়েরা মনের মাঝে রূপশাদা পাল উজানে ভাসানো সকাল। অন্তরে তন্তুশালা; শাদা-কালো বয়নের দিন হলদে সুখের মত জিভের সুড়ং বেয়ে এক ঝুম নীল এখন নাটক শেষে ঘুমিয়েছে অপেরা পাড়া নাটকের গোপনতা ছড়িয়েছে ছুকরিবাতাস আহ, অপেরা হাউজ – সব চোখ মোম, গলনপ্রবণ... কালো পর্দা নেমেছে নীরব আড়ালখানা আড়াল কোরো না তবু ...... দুই চোখ মেলে ধর দৃষ্টি বিজনে দূর সুদূরের পথ রক্তডোরে লেগে আছে ভোর তোর রশ্মির চুম্বন স্নেহডোরে প্রত্নতৈজস রঙ সান্ধ্য সীমান্তে রাত্রিমতো চোখতারা তোর... স্থির তারওপরে বৃষ্টিটুপুরে ছায়া তোর অন্ধকার করে আসে তন্বীতুফান ! অন্ধকার করে আসে অতি দীর্ঘকাল ...... ................... সোম, অগাস্ট ২৯, ২০১১

সে দুপুরে উড়ে যাওয়া চিল

এই উড়ানের কাছে খেলা আছে সাপ-মই-সাপ বিকেলের দীর্ঘ ছায়ায় আছে ফকীরির গান সে আমারে বলেছে তালাশ সে আমার মোহের কাতিল বিজোড় চক্রান্ত আদি-অন্ত দুপুর সে দুপুরে উড়ে যাওয়া চিল উড়ে যাও এরকম সুনিপুণ গুপ্তি উড়ান ছায়াছাপ রেখে যাও সৌখিন নক্সানবীশ ডানায় রৌদ্র চিহ্ন বিনীত আকাশ ডানাকাটা বাতাসের শিস তুমি যত উড়ে যাও দলছুট ক্রীড়ার উড়াল আমি ততো তিনসত্য বৃক্ষে বসে থাকি ততো খুঁজি বৃক্ষ আশিস মৃত্তিকার কাছে পিরামিড সুপ্তি চিহ্ন-ছাপ প্রদোষের ধী্রে আছে শিকারের রক্তকাহন সে আমারে বলে মুসাফির সে আমারে দেয় অভিশাপ ঋষিমুখ করি করজোড় আমি কোন্ ডাহুক ডুবে বাঁচি ! বলি নাই তারে আমি কোন্ মায়া ধ্যানযোগে পরাজিত আছি ভরে দাও এরকম ত্রিসন্ধ্যা পাণ্ডুলিপি শতরঞ্জ ঘোড়াদের চাল নগরীর থিয়েটারে দহন নাটক ছায়াময় কবিতা সকাল আকাশটা থিতু হলে জলভারনত হলে দগ্ধ ডানায় পাবে দোলরঙা কাল

মনসংহিতা

আকুল দেখেছে আলোকসাঁই গীতি জাগা পঞ্চমে মেঘরুপালি তান সুরলেখায় ছবি কার তড়িৎলতা ! জাতিকার বিন্দু-বিসর্গ নিয়ে রূপকবিতার শিষ এ যে কোনো শ্রীভোরের টান, বালি-কথকের অভিমান যখন সে গেয়েছিল মায়াতানে - সুবলং পাহাড়ে যখন রঙ তারার আড়ং সে তখন জুঁইজোছ্নায় পিয়াইনের বুকে সচল আলোর পানকৌড়ি যার উধাও হেমন্তদিন; অ্যাসফ্যাল্ট জঙ্গলে সেও আকাশে জাগে বর্ষা মদির এইদিকে দোহারের পাড়ে ঘোর পদ্মার বিস্তার তার বুকে মাটি আর মানুষের লুপ্তিবিষাদ সে তবু এক জলটুঙি হয়ে থাকে যার দিকে হৃদয়েরা হেঁটে গিয়ে এই রাতে আলো হয়ে আছে মনসংহিতার কোকুনে নাচ মুদ্রা ঘুম, নীল ভেইন্, শার্পনেল... পদ্যখোর ঝিম লেগে আছে অনন্ত রাত্রি সময় কথক, কন্যাকথার মত একটি অভিমান ধুলির ডাকবাক্সে পড়ে আছে কিংখাবে লেগে আছে রক্তপুরাণ...