পোস্টগুলি

হেসে দাও এই অপরাহ্নের দিকে চেয়ে

হেসে দাও এই অপরাহ্নের দিকে চেয়ে এই অপরাহ্ন, একা হাসির পানসী ভাসিয়ে দাও এই বাতাসে বিগত সারা সারা দিন উৎসবের মত প্রোজ্জ্বল হয়ে উঠুক আমিও মেলে দিলাম সন্ধ্যাহাসি রাত্রিলব্ধ কথা বুকের সংগোপিত মেসোনাইটে অ্যাক্রেলিক উঠে এলে দশটি আঙ্গুল হয়ে খেলা করে হৈমন্তিক আঁখর বুকের পাঁজরে রৌদ্রের সঞ্চয় থেকে দৃশ্যমান হয় উচ্ছল অহমীয়া সবুজ ! আপাত মনোলিথিক জীবনের সব সংগতি ঝেড়ে ফেলি, আর তক্ষুনি কফিনের কোনো চোরা ছিদ্র পথের রশ্মিরেখায় ভাসে প্রাকৃত মুখ …নিঝুম দ্বীপের মত প্রকৃতি যাকে আজীবন নগ্নতা দান করেছে সেই নিরঞ্জন বলেছিল হাতচিঠির সংলাপ - সূর্য দিনের বিধান, রূপসার রুপাজল বেয়ে বেয়ে অন্তর্জলী যাত্রার উপাখ্যান; আর কফিন দেয়ালে আছড়ে পড়েছিল ধ্রুবরেখা দেশেদের সমুদ্র ঢেউ গহনকৃষ্ণ মেঘ, ঝড়জল, হরিয়ালের প্রপঞ্চময় ঠোঁট পিছু ফেলে যুগ যুগ নিরম্বু উপবাস শেষে জীবনচ্যূত সময়কে ঝেড়ে ফেলি। আজ শুধু সুরূপার চোখের বিদ্যুতে ভেসে ভেসে উঠুক লউসনিয়ার গথিক ক্যাথেড্রাল আর আমি আরমানী মোহন্তের মত নির্বাণ পথ নিয়ে, কত প্রশ্ন নিয়ে মুখোমুখি বসে থাকি… দেখ, তোমাদেরও চোখে দোয়েল পাখনায় দু’ধারায় আলো ঝরে পড়ে… এই অপরাহ্ন, একা হেসে দাও এই অপরাহ্নের দিক...

আমাদের সনাতন সাঁকো

প্রত্যুষের কুমারী আলোর মত কবিতার শ্লোকে জেগে উঠছে স্তব্ধ সময়ের হিম ভাস্কর্য - সিডার-এর আবডালে জ্যোৎস্নার গতিক অবিরাম প্রত্যাবর্তিত দহন মনান্তরের নিঃসবুজ খরাদীর্নতা খালাসির জিন্স থেকে দেয়াল চিত্র--- স-ব ! কবিতাসময় এসেছো তবে শিশিরের মাহিনায়- যাই তবে, অস্থিখোলায় ফের ইজেল সাজিয়ে বসি হাড়িকাঠ থেকে প্রতীক্ষাবাহী করোটিকে বের করে আনি অনন্ত সন্ধ্যা বেলায় এরকম মিস্টিক কবিতার কালে আমাদের সনাতন সাঁকো আবারো যাতায়াত উপযোগী করে তুলি সন্ধ্যামণি মায়ার ক্যানভাসে এঁকে আনি তৃণতন্ময় গেজেল পশতু আখরোটের অ্যারোমা নৃত্যাগারে নিয়ে যাই অন্তঃপুরিকার নীরব নুপূর যেই সব রূপমেয়েদের চুলে বাতাস উড়ে এলে অগ্নি শিখার মত জ্বলে রাত্রিময়তায় তাদের বৃন্দনুপূর তাথৈ আমি তাদের চোখে এঁকে দিয়েছি হিমানীর সুর্মা আমি তাদের ময়ূরের মত রাঙানো সব ভ্রূসংকেত এরকম তুলোট কাগজে লিখে দিয়ে যাচ্ছি রেখে যাচ্ছি কোঠাবাড়ির রক্তটিউলিপ সংশুদ্ধির চুম্বন চিতা কার অনুগ্রহের যজ্ঞবেদী হয়ে ওঠে বার্ণিক ক্যানভাসে নির্দয় রাত ফার্নেস ঠোঁট – অবিরাম আগুনসিম্ফনি... এখন কবিতাসময় কুয়াশার মৌন অ্যালার্ম থেকে জেনে গ্যাছি আমি

নামকরি – নদী নাকি তারা?

নামকরি তাই আমি নদী আর মুছে গেছে যারা নদী নাকি তারা? কেউ দেখ নোঙর ফেলেছে আজ সসজ্জ আলোবতী তারার টোপাজ বনিত ভিনাস আলোজ্বালো আলোজ্বালো দ্রাবক ব্যাথার আরতির সাইরেন বেজে ওঠে শুরু হয় গুপ্তচর পায়রার নিলীমা সম্মোহন ক্লিওপেট্রার শিথিল শরীর ছুঁয়ে হাওয়ারা উড়ে যায় পাখিদের ঘর এত সব পাখি জাগানোর পর হাওয়ারা ঘুমোয় নির্জনে জেগে ওঠে দিব্য আঁধার চোখতারা বিন্দুর ওপরে ঘুরে যায় নিশাচর জল অন্দরের মিহরাব থেকে বেজে ওঠে ভোর পাখি মন্দিরা, পরিযায়ী আনন্দ আগুন শঙ্খবিষ কবিতা এঁকে দিলে সান্ধ্য সারেং মেরিনার কম্পাস মাস্তুল সবশুদ্ধু দিগন্তময় নদী ভুলে যায় পথ ভোলে জলপথ বনোয়ারি মন সেইখানে ছায়াবানী সারা গায়ে মায়া চিহ্নিত হরিণ তামাটে পিঠের স্বেদে প্রত্যালীঢ় শিকারীর দেহ খরা জাগে বিলেতী বালুর শরীরে খরা জাগে ঘাম নামকরি তাই আমি নদী; নদী নাকি তারা? যার আলো পৌঁছে নাই আর যার এই তারার জীবন যে কোনো আসন্ন প্রেমের মত ক্ষণ… নিঝ্ঝুম সতৃন আলোছায়া মুখ তমোহর – জ্যোতিষ্মান্‌‌‌ জেগে ওঠো বানদায়ী শস্যদায়ী নদী মিসমার এপার ওপার--- সব বাঁটোয়ারা বুঝে নিয়ে পরিজনে ফিরে এসো এইখানে শঙ্খবিষ কবিতা শৈশবাবধি সমুদ্দুর...

শ্যামা মেয়ের নামে

সজল দেশে পুড়ছে তারই শতবর্ষা শুকনো চোখ জখমি পাতায় সবুজ বিনোদ, শ্যামা মেয়ের আর্দ্র মুখ কোন মায়াতে স্নেহধারায় শ্যামার শ্যামল ভেসে যায় কাতরকণ্ঠ করুণিমা বৃষ্টিদেশের সীমানায় বাগানবাড়ির ভগ্ন দেয়াল সেইখানে কার নামলেখা ফল্গুধারায় বইছে সে নাম মন গহনের চিত্রিকা স্মৃতিগ্রাসের কলরোলে মন্দাক্রান্তা গীতিময় শ্যামার আকাশ প্রতীক্ষিত এই বুঝি হয় সূর্যোদয় চুপিসাড়ে বাসন্তিকে আড়ি পাতো মেঘ কালো মেঘ কালো-ই জল বরষায় শ্যামার দু’চোখ রাঙালো মণিকোঠায় অতীত থাকে, শপথ থাকে স্বপ্নজয় গীতিরূপের ছলোছলে নীল তরণীর ভাসতে হয় সাগরমেখলা সে কোন দ্বীপে ধনুকধারীর বসবাস অন্তকালের অপেক্ষাতে মৎস চোখের কারাবাস পুড়ে যাওয়া রাত কালো হয় পরাগযোগের উড়ানি শমী শান্তি উপশমে সঙ্গোপনের গান শুনি নেত্রকোণায় স্তব্ধ সময় ভোর জেনেছে পরাজয় রাতবিরেতে শ্যামা জাগে, অবিনাশী বৃষ্টি হয়… এই বেলা যে বিমনা খুব বারেবারে নামডাকা পথভোলা কার বনগহনে নামতা শেখার সুর রাখা

ফিরে দেখা

স্বপ্নের শরীরেও এক স্বপ্ন আছে পাতালঅন্ধকার মায়া ঠিকানায় গেলে ডে-ড্রিম মরফিনবেলা সন্ধ্যালীন... সাগরের নীল থেকে দারুচিনি ঠোঁটে উড়ে আসা সমুদ্রপাখির পালক থেকে জন্ম নেয় আততায়ী তীর মণিকাচ মিত্র দ্রোহের প্রণাশ – এভাবেই পৃথিবীতে শুরু হয়েছিল শোকপ্রথা প্রায়াম-এর অশ্রুপ্রাপ্তা স্বদেশ মৈথিলীর প্রতিরোধ তোরঙ্গ খোলে চিচিং ফাক নিশানায় নির্ভুল করবেট রাইফেল তাক করে ভুলে যাওয়া ক্যাফেইনের ঘ্রাণ ঝাঁকে ঝাঁকে ছুটে আসে পাখির পালক বাঁধা তীর জাফলং ঝাউ, নীলগিরি পাহাড়ে সূর্যমেঘের এনামেল, রুহানির গান – এইসব অবিদ্ধ থাকে শিকারী জানে না সুগভীরে নীলে আরও নীল জাগে বাহামার সমুদ্রের মত ডীনস ব্লু’র গর্ভেও আছে বিরানা শংখমুক্তার দেশ, স্বপ্ন মণিকা্‌র, বিসর্জিত বিচরণ। স্বপ্নের গর্ভেও স্বপ্ন আছে – সন্ন্যাসসুন্দর উত্তরের আকাশে উদীচীর আলো উঠে এলে পুষ্পভাষায় জাগে রাত্রিপাখির সেরিনেইড ধুলির তোরঙ্গ থেকে বেরিয়ে আসে সুপ্রাচীন অর্কিড দাহের প্রমিতি নেই, আগুন বুঝেছে কবে চিরধীর শান্তমতী কারো পৃথিবীতে অগ্নিরূপন কত বড় অপরাধ, মায়াবাড়ি দীঘি ঘাস কোথায় জ্বলতে নেই? স্বপ্নশরীরেও মিশে থাকে স্বপ্নফসিল আরক্ত আকাশে থাকে গোধূলির রঙ এরকম পালা জ্বরে মি...

আজকের রাত তুমি নির্জন রেখো

প্রলম্বিত রাত থিতু হয়ে আছে তবু এই অতিন্দ্রীয় ক্ষণে জাগে বিজয়ার শোভাযাত্রী অহেতুক উল্লাসে ফেটে পরে পানার্থী চায় জল, চায় অমর বারুণী এলাচ সুগন্ধে জাগে স্নেহময় কাল আর আমি ধূপের মত প্রণত লহরি তুলি রাত্রির মিত ছুঁড়ে দিয়ে চিড়িতনের টেক্কা - জয় জয়ন্তী তুলি শৌখিন জুয়াড়ি টেবিলে পতঙ্গ পতঙ্গ নাচ অনল মাদল আজ এসো নির্বাপণ কর মুখোমুখি অভয়দান কর ধন্বন্তরি আঙ্গুলে স্পর্শ নিরাময় মুখোমুখি সুচেতনা ঐ দেখো ধেয়ে আসে শৈলেন মেঘ, ইচ্ছেঘুড়ির মত দোল খায় ধুলির ঘূর্ণি হারিয়ে যাওয়া সেই এক কাজলাদিদির আঁচল এইখানে বন্ধু সমতল, সংসারী মাপজোখ স্বপ্ন প্রতীপে রাখা জীবনের বানপ্রস্থ শুধু আজকের রাত রেখো বৃষ্টিমধুর স্মৃতিকথার পিলসুজে রেখো আলো আর ছায়ার লহর নভচিত্রে হঠাৎ খেলে গেলে বিজুরীর রেখা শাদা দিলির পাখায় দলছুট উড়ে আসতেও পারে তিথিক্ষয়ে হারিয়ে যাওয়া ঝোঁটন পায়রা তোমার ঠিকানা দূর তবু লুব্ধ কাতর পাখি উড়বে সুদূর সান্দ্র সবুজ চিড়ে তোমার বৃক্ষ নীড়ে খুঁজে নেবে সে তখন পূণ্য প্রয়াগ আজকের রাত তুমি নির্জন রেখো আজকের রাত রেখো বৃষ্টিমধুর

অভিঘাত

এই বেনিয়া নগরে পতনোন্মুখ বজ্রের আক্রোশ বলেছিল শেরপার আরোহী উপাখ্যান--- একদিন মেতেছিলাম লাল মিছিলের জ্বরে আমাকে চিনিয়ে রাখা, মানুষ মানুষ লেখা শাদা শাড়ি লাল পাড় তোমার ব্যানারে একদিন দেখা হয়েছিল অক্ষরে অক্ষরে ঝিনুক চূর্ণ মাখা আকাশের নীচে ফ্লুরোসেন্ট আলোয় কার প্রদীপচোখ কবিতা কাজলে উর্ধে তাকানো পথে ম্রিয়মান তারাদের বিদ্যুতে জ্বলে ওঠা, জ্বলে জ্বলে উঠবার ক্ষণে; একদিন ডেকেছিলে শপথবাক্যে অন্তরিত রক্তলেখার শত ভিসুভিয়াস উদগিরণে আত্মমৃত্যুর ছায়াবনে ক্ষমাহীন আগুনে আগুনে একদিন কথা হয়েছিল চা বাগানের পাতায় পাতায় সূর্যের শ্লোকে সাতদিন সাতরাত বৃষ্টির পরে দেখা হয়েছিল আমাদের এরকম অক্ষরে অক্ষরে

তুমি একা নও

সৃষ্টি তোমার রূপ সুন্দর সোনার চেয়ে দামী তোমার মাঝেই সকাল যে তাই জেগেছিলাম আমি; - এ যার প্রার্থনা যার সমাচ্ছন্ন সুরে আশাবরির গুমখুন সে-ই বলতে পারে আমি হাওয়ার মত উত্থিত হব গঙ্গোত্রীর প্রাণজল বুকে ধরে আমি বয়ে যাব--- আদরকাতর তটরেখায় বিলিয়ে দেব আমার ধারন আর যে গাইবে না সে হারিয়ে যাবে এই আমি যাযাবর মেঘ বলে গেলাম অনাথ পাখির মত ডানা ঝাপটাবে তুমি ছন্দ গোছাবে না যে, তার পতন রোধে আর কেউ থাকবে না কোত্থাও যে গাইতে পারবে বিস্মৃত সন্ধ্যার সুর যে নিদ্রাকর নয় যে স্বপ্নতম নিঃশ্বাস টেনে এনে গড়ে তোলে মূর্ত মায়া সে-ই বলতে পারে – আমি একা নই তাই তুমি তোমার সমস্ত অনুভব জন্ম বৃত্তান্তে লিখে যেও সেইখানে উঠে আসবে বিপদ সাইরেন থেকে শুরু করে নীল মাছরাঙার উড়ান, শ্যাম্পেনের বুদ্বুদ থেকে সুসবুজ ঘাসের ভূচিত্রাবলী, শ্রমিকের ঘাম থেকে সূর্যদিনের ফটক তুমি একা নও আমি একা নই আমাদের কণ্ঠস্বরে পার্থিব সংগীত উত্তরাধিকারে পড়ে আছে বিস্তৃত অকর্ষিত জমি

আমি কোন শব্দকর নই

সে-ই দিয়ে গেছে ক্বচিৎ স্খলন নাক্ষত্র মুখ যার--- যে দিয়েছিল চকিত চাহনির মত উপহার নেচে যাওয়া দাদরায় বৈশাখী ঢাক যে এনেছিল ঝড়ো বৈশাখ তাকেই বলতে পারি তাপদগ্ধ দুপুরশাড়ির হলুদ শরীর সিক্ত কর বৃষ্টিচুম্বনে ঝরে পড়, ঝরে পড়...... কী এক দিব্যপ্রেরণায় নিশীথা উড়িয়েছিল শঙ্খচিল আকাশ সুরেখায় তীব্র তীরের মত বিঁধে আছো ঈগল উল্কি সহ্যাতীত মখমল প্রেইরীর তারুণ্যে শ্যামচোখ দ্রাবিড় নারীর যত জীবনপ্রতিম ব্যাথা আর আমাদের দ্বৈতকথার বিস্তার তন্নতন্ন করে লুণ্ঠন করে গ্যাছে আমাদেরই আজন্ম অঞ্জলিদান নাহ! আমি কোন শব্দকর নই আমি এখনো সেই মহিমমুখর কুমার আমার আঙ্গিনায় আঁজলা ভরা কুয়াশা নিয়ে কেউ আসে নাই আর আমার কুলালচক্রে জলমৃত্তিকার ঘূর্ণনে আর কোনো গল্পগাঁথা আঁকা ফিঙ্গে পাখির অবয়ব ফোটে নাই নিয়ন নীল নগরের বুকে আমার এখনও বৃক্ষমন আমার চক্ষুময় ইক্ষুর মিষ্টি মদ আঙ্গিনার পুষ্প জাফরিতে ফরাসী ঘ্রাণ মণিপুরি চাদরের মত বর্ণময় দিন বোনে যে যারে আমি দান করি আলোর প্রহর কৃষ্ণতরুণ মেঘ; যার চোখের শার্সিতে হিরাশিশির শ্যাম চোখ মায়ায় যার বাবুমনি ভোর--- শুধু তারই জন্যে এই কুশতৃণ হাতে হিরণমন্দিরমুখী প্রার্থনা - পলাশ স্পর্ধার মত রক্তময় সুক্ষণে ওংকারে...

ক্ষরণ বৃক্ষপাতায় আঁকি

সড়কচিহ্নে যত মৃতমুখ আলপনা করা আছে সমস্ত ক্রন্দন বৃক্ষপাতায় আঁকা বিনিদ্র বৃক্ষের শেকড়ের অক্ষরে মৃত্তিকার ধারন ইতিহাস লেখা আছে, তাই - ফুলের ফুলকি জ্বালিয়ে আর আমাকে ডেকো না সুরের জলসায় বেসুরো যত সুর আর গ্রথিত নোটেশন উপেক্ষা করে লাভা ক্ষোদিত প্রান্তর ঘুরে ফিরে আমি চিনে গেছি গুহাচিত্র যত ফুরফুরে মেঘ উড়ে গেলে আকাশ এসথেটিকস –এ শরতের পাঠ জমে যায় অলীক অনুভবের মত ব্যাখ্যাহীন রশ্মিময় নক্ষত্র দেখে দেখে ঢেউছন্দা সাগরের নীল লোভ ফুঁসে ওঠে আর এই বাধক বর্তমান ধুনি সন্ন্যাসীর মত জ্বালিয়ে রাখে চিতার আগুন বিভঙ্গ মুছে ফেল যমুনা আমার বিনিদ্র বৃক্ষের মত আলোময় প্রভাত প্রতীক্ষা মুছে ফেল লণ্ঠনের আলোর মত মায়াময় রাত্রি জ্বলে উঠলে নম্রনেত্র তুলে ধর, দেখ আমার সমস্ত শরীরময় জালকাঠির প্রতারণা সেইখানে তোমার নামের বিদ্যুত অক্ষর নিমজ্জিত - আপনহারা শিশির আপ্লুত ঘাসের মত আঁজল ভরা সবুজ মাখা মুখ কতোটা জাজ্বল্যমান--- আমার যাচিত যাপন আলোকসংকেত ভোলে নাই তবু কেন ডাক, দংশক ইথারে ইথারে? চিকন ভোরের মত আলো দান কোরো না আর এখন অন্ধকার দ্রাক্ষাবনের সুঘ্রাণ আহ্বান আমাদের যুগল স্নান প্রান্তরময় মিশে মিশে গ্যাছে কবে... এই জন্মেরও আগে হারিয়...